মেটাবলিক সিন্ড্রোম

প্রফেসর ডা. এ. কে. এম. মূসা

অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ 

আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর-১০, ঢাকা

মেটাবলিক সিন্ড্রোম হলো অনেক অবস্থার সমন্বিত রূপ। এর উপসর্গগুলো একত্রিত হয়ে একটি নির্দিষ্ট রোগ সৃষ্টি হয়। যাকে বলে মেটাবলিক সিন্ড্রোম। মেটাবলিক সিন্ড্রোম হলো এমন একটি অবস্থা, যেখানে উচ্চরক্তচাপ, উচ্চ পরিমাণ টাইগ্লিসারইড, ডায়াবেটিস ও স্থুলতা একসঙ্গে থাকে ওই ব্যক্তির দেহে।  এই রোগের কারণে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

লক্ষণ : মেটাবলিক সিন্ড্রোমের লক্ষণ ও উপসর্গগুলো নির্দিষ্ট এবং নির্ধারিত নয়। একেকজনের একেক রকম লক্ষণ দেখা যায়। তবে সাধারণ লক্ষণগুলো হলো দীর্ঘসময় ধরে উচ্চ রক্তচাপ থাকা। ব্যক্তির কোমরের মাপ বৃদ্ধি। ডায়াবেটিসের লক্ষণ এবং ইনসুলিনের প্রতিরোধী সংক্রমণের পুনরাবৃত্তি। পিপাসা ও ক্ষুধা ,ওজন বৃদ্ধি। মূত্রত্যাগের আধিক্য।

কারণ : উচ্চ রক্তচাপ। টাইপ-২ ডায়াবেটিস। মহিলাদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থার সময় ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধির ফলেও এটা হয়।

রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা : মেটাবলিক সিন্ড্রোম নির্ণয় করা হয় যখন কোনো ব্যক্তির মধ্যে নিচের লক্ষণগুলো দেখা গেলে। রক্তে কোলেস্টেরলের উচ্চ মাত্রা। কোলেস্টেরলের মাত্রা জানার জন্য রক্ত পরীক্ষা করা হয়। হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ-১৪০/৯০ এমএম এইচজির স্থায়ী রক্তচাপ বা মেটাবলিক সিন্ড্রোমের বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। স্থুলতা বা একটি বর্ধিত কোমরের মাপ বা কটিরেখা। যদি পুরুষের মধ্যে ৯৪ সেমি বা তার বেশি এবং মহিলাদের মধ্য ৮০ সেমি বা তার বেশি থাকে, তবে এটি একটি অস্বাভাবিক মেটাবলিজমের ইঙ্গিত করে। রক্তে উচ্চ গ্লুকোজের মাত্রা। জীবনযাপনে পরিবর্তন এনে মেটাবলিক সিন্ড্রোম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ধূমপান বাদ দিতে হবে। কারণ ধূমপান কার্ডিওভাসকুলার রোগ, স্ট্রোক, ক্যানসার এবং অন্যান্য রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। খাবারের নিয়ন্ত্রণ রাখা। অতিরিক্ত খাওয়া-দাওয়া যেমন স্থুলতা বাড়ায়। তাই খাবার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। শারীরিক পরিশ্রম বাড়ানো। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ টাইগ্লিসারইড নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ওজন কমানো গুরুত্বপূর্ণ। এর পাশাপাশি ইনসুলিন রেসিস্ট্যান্সও গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়াও মেটাবলিক সিন্ড্রোমের নিয়ন্ত্রণ করতে রক্তের শর্করার পরিমাণের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ইনসুলিন নেওয়া এবং রক্তচাপ কমানোর জন্য ওষুধও ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খেতে হবে।