ডা. ইলোরা আজমি
শিক্ষার্থী, কুমুদিনী ওমেন্স মেডিকেল কলেজ
শরীর ঘেমে যাওয়া ও ঘাম হওয়ার সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। অনেকে আবার বেশি ঘেমে থাকেন। কারও ঘামে আবার বেশ দুর্গন্ধ ছড়ায়। শরীর ঘেমে যাওয়া দুই ধরনের। একটা হলো সারা শরীর ঘেমে যাওয়া আর অন্যটা হলো বিশেষ বিশেষ জায়গায় ঘেমে যাওয়া, যেমন হাত-পায়ের তালু বা বগলের নিচে ঘেমে যাওয়া। নিজের গায়ের ঘামের উটকো গন্ধ অনেকেই বুঝতে পারেন না। তবে বুঝতে পারুন আর নাই পারুন সচেতন থাকতে হবে।
ঘাম শরীরের একটি স্বাভাবিক বিষয় এবং নিয়ম করে ঘাম ঝরাতেও হয় শরীরের অতিরিক্ত মেদ কমাতে ও সুস্থ থাকতে। তবে কোনো কারণ ছাড়াই দেহের নির্দিষ্ট কোনো এক জায়গায় মাত্রাতিরিক্ত ঘাম হলে সেটা নিয়ে একটু মাথা ঘামাতে হয়। মাত্রাতিরিক্ত ঘাম অনেক সময় শারীরিক দুর্বলতার কারণে হয়। আবার ভিটামিনের অভাবেও হতে পারে। কোনো কোনো খাবারের কারণেও ঘাম হতে পারে। আমাদের শরীরে কিছু ব্যাকটেরিয়া বসবাস করে। এসব ব্যাকটেরিয়া ইকক্রাইন গ্ল্যান্ড এবং এপোক্রাইন গ্ল্যান্ড থেকে নির্গত ঘাম ভেঙে ফেলে। এই ঘাম ভেঙে প্রপানয়িক এবং ভ্যালেরিক অ্যাসিডে পরিবর্তিত হয়। এর কারণেই ঘামে উৎকট দুগন্ধ পাওয়া যায়।
ঘামের দুর্গন্ধ দূর করার ঘরোয়া উপায়
নিয়মিত আর্মপিট পরিষ্কার রাখতে হবে। সেক্ষেত্রে ব্যবহার করুন অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল সাবান। এর ফলে কম হবে ঘাম ও দুর্গন্ধ। ডিওডোরেন্টের ব্যবহার করতে পারেন।
নিয়মিত গোসল করা। প্রয়োজনে হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করতে হবে। গরম পানি ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে দেয়। ঘাম ও দুর্গন্ধ হয় না। ঘাম যাদের বেশি হয় তারা ব্যবহার করুন ন্যাচারাল ফাইবার যুক্ত কাপড়। এই কাপড় ত্বকে বাতাস চলাচল করতে সাহায্য করে। ধোয়া সুতির কাপড় পরুন। অন্যথায় ঘাম জামা কাপড় থেকে ব্যাকটেরিয়া শরীরে আবার ঘামের দুর্গন্ধ সৃষ্টি করবে।
নিমের পানি শরীরের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। বাটিতে ফুটন্ত গরম পানি নিয়ে তাতে কিছু নিমের পাতা ছেড়ে দিন। তারপর অপেক্ষা করুন ২০ মিনিট। এই কয় মিনিটে নিমপাতা থেকে সব নির্যাস বের হয়ে যাবে আর পানিও একটু ঠান্ডা হয়ে আসবে। এবার শুকনো তোয়ালে এই পানিতে ডুবিয়ে শরীরের যেসব স্থানে ঘাম হয় সেসব স্থান মুছে নিন।
টি ট্রি অয়েলও ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করার জন্য উপকারী। একটি স্প্রে বোতলে পানি ভরে এর সঙ্গে ৩ ফোঁটা টি ট্রি অয়েল মেশান। তাই প্রতিদিন একটি করে শসা খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। সালফিউরিক সমৃদ্ধ খাবার যেমন ব্রকলি, বাঁধাকপি, ফুলকপি পরিমাণে কম খেতে হবে। কারণ এগুলোতে মিনারেল সালফার থাকে, যা গন্ধযুক্ত গ্যাস আমাদের ত্বকের সাহায্যে নির্গত করে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে।
প্রতিকার
হাতের তালুর ঘাম রোধ করার জন্য অ্যালুমিনিয়াম হেক্সাহাইড্রেট লোশন, যেমন ড্রাই কেয়ার ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। পুরো শরীরে যাদের ঘাম হয়, তাদের আমরা প্রোকাইন ওষুধ খেতে পারেন। তবে এটি বেশি খাওয়া ঠিক না। কারণ এটি চোখ, ঠোঁটকে শুষ্ক করে ফেলে। মুখের ঘামের জন্য পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। বেশি ঘাম হলে কিছু ওষুধও রয়েছে। যা মুখকে একেবারে বেশি শুষ্ক করে তোলে। আবার ঘাম যখন বাতাসের সংস্পর্শে এসে অক্সিডেশন হয়, তখন দুর্গন্ধ ছড়ায়। এটাকে ব্রোমহাইড্রোসিস বলে। এর ভালো চিকিৎসা এখনো আবিষ্কার হয়নি। ঘামের দুর্গন্ধ দূর করতে অ্যান্টিপারসপির্যান্ট ব্যবহার করলেও এতে পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া রয়েছে। তবে শরীরের যে অংশ বেশি ঘামে, সে জায়গাগুলো যতটা সম্ভব শুকনো রাখা। আর কিছু ওষুধ আছে, যা শরীরকে শুকনো রাখতে সাহায্য করে, সেগুলো খাওয়া।