আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমলেও বাংলাদেশে বর্তমানে হিলিয়াম গ্যাসের কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে ‘সোসাইটি অব সার্জনস অব বাংলাদেশ’ আয়োজিত ‘সিএমই অন মেডিকেল এথিকস’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে হিলিয়াম গ্যাসের কোনো ঘাটতি নেই, ফলে দেশের হাসপাতালগুলোয় এমআরআই স্ক্যানসহ অন্যান্য জরুরি চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই।
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে হিলিয়াম গ্যাসের সরবরাহ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে। এর ফলে বৈশ্বিকভাবে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং চিকিৎসা খাতের অতিপ্রয়োজনীয় এমআরআই মেশিন পরিচালনা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এ নিয়ে মন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যুদ্ধের প্রভাবে যাতে বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্য খাতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হিলিয়াম গ্যাস কাতার থেকে আসে। এই গ্যাস হরমুজ প্রণালি হয়ে পরিবাহিত হয়। এটি প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনের উপজাত। সেমিকন্ডাক্টর ওয়েফার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, যেগুলো পরে কম্পিউটার, যানবাহন ও গৃহস্থালি যন্ত্রপাতিতে ব্যবহৃত মাইক্রোচিপে রূপান্তরিত হয়। হিলিয়াম হাসপাতালের এমআরআই স্ক্যানারের চুম্বক ঠা-া রাখতেও এটি ব্যবহৃত হয়।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর কাতারের বৃহৎ রাস লাফান প্ল্যান্টের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। এই প্লান্টে মূলত এই গ্যাস তৈরি হয়। কাতার সরকার জানিয়েছে, ক্ষতি অবকাঠামো মেরামত করতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। এতে গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।