জ্বালানি তেল সংকট আরও ব্যাপক হচ্ছে

যুদ্ধ যতই দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই জ্বালানি নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে। যার প্রভাবে প্রায় একমাস ধরে দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে যে সংকট শুরু হয়েছে তা ক্রমেই বড় আকার ধারণ করছে। জ্বালানি তেল নিয়ে এরইমধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আর হট্টগোল হচ্ছে হরহামেশা। সরকারের নানা পদক্ষেপ আর আশ্বাসেও চাহিদামতো তেল মিলছে না। দীর্ঘসময় অপেক্ষার পরও তেল না পেয়ে ত্যক্ত বিরক্ত সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে জেল-জরিমানার পরও থামছে না  তেলের অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারি।

জ্বালানি নিয়ে এই সংকট শুধু বাংলাদেশেই নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। উন্নত রাষ্ট্রগুলোর সক্ষমতার কারণে নানা উপায়ে এখন পর্যন্ত তারা কিছুটা সংকট  মোকাবিলা করতে পারলেও অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো বড় বিপাকে পড়েছে। শেষপর্যন্ত যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সব দেশই সংকটে পড়বে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক দেশ সাশ্রয়নীতি অবলম্বন করেছে। সবমিলে জ্বালানি নিরাপত্তা বড় হুমকির মুখে পড়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ম তামিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, শুধু বাংলাদেশে নয় বিশ^জুড়েই জ্বালানি নিয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের মতো তেল নেওয়ার লাইন এখন ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশে দেখা যাচ্ছে। যুদ্ধ না থামলে এই সংকট থেকে উত্তরণের কোনো উপায় নেই।

‘এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আগাম প্রস্তুতি নিতে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ দরকার তা আমাদের নেই। ফলে সবচেয়ে ভালো উপায় হলো সাশ্রয়ী হওয়া। বিভিন্ন দেশ এরইমধ্যে নানারকম সাশ্রয়ী নীতি অবলম্বন শুরু করেছে। আমাদেরকেই সেদিকে যেদিকে,’ যোগ করেন তিনি।

তামিম বলেন, ‘সরবরাহ ঘাটতি হলে বিশৃঙ্খলা হবেই। এই সুযোগে অতীতের মতো কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তেলের অবৈধ মজুদ শুরু করেছেন। পাশাপাশি মানুষ আতঙ্কে চাহিদার অতিরিক্ত তেল কিনছেন। ফলে সংকটের সঙ্গে সঙ্গে বিশৃঙ্খলা আরও বেড়ে গেছে। আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন করে সাশ্রয়ী হতে হবে। সেই সঙ্গে সরকারের আরও নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি বিকল্প উপায় খুঁজতে হবে।’ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। শুরুতে সরবরাহকারী অনেক প্রতিষ্ঠানই আগ্রহ দেখালেও এখন পর্যন্ত নিশ্চিত সরবরাহের প্রতিশ্রুতি মিলেছে খুব কম। ফলে আগামী দিনগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা কাটছে না।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে হরমুজ প্রণালি হয়ে আমদানি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এরপরই জ্বালানির বিকল্প উৎস খোঁজার চেষ্টা শুরু করে সরকার। তবে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অন্য দেশগুলোও একই চেষ্টা চালানোয় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। যদিও ইরান জানিয়েছে, বাংলাদেশের জাহাজ জ্বালানি নিয়ে হরমুজ প্রণালি পার হতে পারবে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি স্থাপনায় একের পর এক হামলার কারণে কবে নাগাদ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

দেশে জ্বালানি তেল আমদানির একমাত্র রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। সাধারণত সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) চুক্তি ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। তবে বর্তমান অস্থিরতায় সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবার সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে তেল আনার উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। এ জন্য বিভিন্ন দেশের অন্তত ১১টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

এর আগে ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর প্রেক্ষাপটেও দেশে জ্বালানিসংকট দেখা দিয়েছিল। সেই সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়। তখন বেশ কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে তেল সরবরাহের প্রস্তাবও দিয়েছিল। তবে শেষপর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠানই জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারেনি। ফলে বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভর করার ক্ষেত্রে অতীতের সেই অভিজ্ঞতা এবারও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাবিয়ে তুলছে।

দীর্ঘ হচ্ছে তেলের লাইন : গতকালও ঢাকার কল্যাণপুর, তেজগাঁও, মিরপুর, শাহবাগ, গাবতলীসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ফিলিং স্টেশনের সামনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি চোখে পড়েছে।  তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেক পাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে। এরপরও তেল পাওয়ার আশায় সেখানে লাইনে দাঁড়িয়েছেন অনেক মানুষ।

দুপুরের দিকে আসাদগেট এলাকার তালুকদার ফিলিং স্টেশনের সামনে গিয়ে দেখা যায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি। কিন্তু পাম্পে তেল বিক্রি বন্ধ ছিল তখন।

 তেল নিতে আসা জুলফিকার আলী নামের এক চালক জানান, কয়েকটা পাম্প ঘুরে ঘুরে কোথাও তেল না পেয়ে বাধ্য হয়ে লাইনে দাঁড়িয়েছিএকসময় না একসময় বিক্রি শুরু হবে এই আশায়।

মিরপুর এলাকার বাসিন্দা আনিসুর রহমান জানান, ‘দুইদিন ধরে তেল নিতে না পেরে তার এক পরিচিত জনকে ৩শ টাকা দিয়ে লাইনে দাঁড় করিয়েছিলাম। তার কাছে বাইক রেখে বাসে অফিসে যাওয়ার প্রায় চার ঘণ্টা পর তেল নিতে পেরেছি।’

লক্ষ্মীপুরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, যানবাহন চালক ও যাত্রীরা। প্রতিদিনই তেল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে গ্রাহকদের, কিন্তু প্রয়োজন অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না অনেকেই।

ভুক্তভোগী পিকআপ ট্রাকচালক কবির মিয়া জানান, আগে যেখানে নির্ধারিত পরিমাণ তেল সহজেই পাওয়া যেত, এখন সেখানে ১০ লিটার নেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে মাত্র ২ লিটার।

ট্রাকচালক মো. রাসেল বলেন, সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু এখনো তেল পাইনি। ১০ লিটার দরকার, দিচ্ছে মাত্র ২ লিটার। এইভাবে তো গাড়ি চালানো সম্ভব না। একবার তেল নিয়ে আবার লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে, এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে।

যাত্রীবাহী বাসচালক আবুল কালাম ‘প্রতিদিনই একই অবস্থা। যাত্রী নিয়ে রাস্তায় নামতে পারছি না ঠিকভাবে। তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে। এতে আয় কমে গেছে, সংসার চালানো কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এদিকে তেল নিতে আসা যানবাহনের দীর্ঘ সারির কারণে শহরের সড়কে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। রায়পুর-লক্ষ্মীপুর সড়কের লক্ষ্মীপুর বাস টার্মিনাল থেকে উত্তর তেমুহনী পর্যন্ত এলাকায় দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে যানজট লেগে থাকতে দেখা গেছে।

 দেশের অন্যান্য এলাকায় দেখা গেছে প্রায় একই চিত্র।

পাম্প ম্যানেজারকে হত্যার ঘটনায় সব পাম্প বন্ধ ঘোষণা : নড়াইলে ট্রাকে তেল দিতে না পারায় এক পেট্রোলপাম্প ম্যানেজারকে ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় জেলার সব পাম্প বন্ধ ঘোষণা করেছে নড়াইল পাম্প মালিক সমিতি। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নড়াইল পাম্প মালিক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, তুলারামপুরে মেসার্স তানভীর ফিলিং অ্যান্ড গ্যাস স্টেশনের ম্যানেজার নাহিদ সরদার হত্যার ঘটনায় জেলার ১০টি পাম্প একদিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এর আগে শনিবার রাত দুইটার দিকে সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের তুলারামপুর রেল ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরেকজন গুরুত্বর আহত হন।

প্রায় সপ্তাহখানেক আগে ঝিনাইদহে তেল নিতে গিয়ে সেখানকার একটি ফিলিং স্টেশনে এক যুবক নিহত হন পাম্পকর্মীদের হামলায়।

অবৈধভাবে জ্বালানি মজুদ, জরিমানা : গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে জ্বালানি মজুদের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এসব ঘটনায় জেল-জরিমানা করেও থামছে না মজুদ-কালোবাজারি।

গতকাল দুপুরে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী হাটে মেসার্স আবুল কালাম আজাদ ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানে বেশি দামে পেট্রোল বিক্রির দায়ে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ১ হাজার ২০০ লিটার পেট্রোল জব্দ করা হয়।

এদিকে শনিবার রাত ১টার দিকে জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কামদিয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদের দায়ে স্থানীয় মুদি দোকানি আলম মিয়াকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং তার দোকানে থাকা ১৫০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। এ ছাড়া  মেয়াদোত্তীর্ণ  লাইসেন্স ও অসাধু  উপায়ে জ্বালানি তেল বিক্রির অপরাধে  মেসার্স  আশা এন্টারপ্রাইজের মালিক বাদশা মিয়াকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার রাত একটার দিকে গাজীপুর মহানগরীর সদর থানার উত্তর সালনা পোড়াবাড়ী এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশে অস্থায়ী চোরাই ডিজেল জ্বালানি তেল ক্রয়-বিক্রয়কারী আব্দুর রাজ্জাকের  দোকান এবং মো. ফিরোজের দোকানে অভিযান চালিয়ে ৮৮০ লিটার চোরাই ডিজেল জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আব্দুর রাজ্জাককে আটক করা হয়েছে। তিনি সদর থানার উত্তর সালনা এলাকার মো. সুলতান হোসেনের ছেলে।

একইদিন রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার সাহেববাজার বাইপাস এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় তিন হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় অবৈধ মজুদের দায়ে স্থানীয় দোকানদার আবুল হোসেনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ ও পাচার রোধে দেশের অন্যান্য এলাকার মতো রাজশাহী জেলার সীমান্ত এলাকায় ১২টি পেট্রোলপাম্পে নজরদারি বাড়িয়েছে বিজিবি। এ ছাড়াও আজ থেকে রাজশাহী রেলস্টেশন-সংলগ্ন পদ্মা ও যমুনা অয়েল ডিপো এলাকায় চেকপোস্ট পরিচালনা শুরু করেছে।

১২ ঘণ্টা পর ডিপো থেকে ৮ জেলায় জ্বালানি সরবরাহ শুরু : জেলহাজতে আটক শ্রমিকদের সোমবারের (আজকের) মধ্য মুক্তি দেওয়ার আশ্বাসের প্রেক্ষিতে ১২ ঘণ্টা পর রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছে।

গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের পর রাত ৮টা থেকে উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পার্বতীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাহমুদ হুসাইন রাজু।

এর আগে, পার্বতীপুর উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের এক ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। পার্বতীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মাহমুদ হুসাইন রাজু ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে ফুলবাড়ী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নব কুমার বিশ্বাস শ্রমিক নেতাদের আশ্বস্ত করায় তারা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেন।

এর আগে শনিবার রাতে পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপো (যমুনা অয়েল কোম্পানি) থেকে জ্বালানি তেল (ডিজেল, পেট্রোল) নিয়ে নীলফামারী যাওয়ার পথে শহরের জেল রোড এলাকায় তেলবাহী লরিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। গাড়ির কেবিন খুলে চালক শ্রীকৃষ্ণ এবং তার সহকারী (হেলপার) ইশতিয়াক ওরফে রিফাত গাড়ি মেরামতের কাজ করছিলেন।

এ সময় নীলফামারী জেলার এনডিসি (নেজারত ডেপুটি কালেক্টর) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নিয়াজ ভূঁইয়া ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় তেলবাহী লরি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। তিনি লরি সার্চ করে লরির কেবিনে থাকা দুটি জারকিনে (ক্যান) মোট ১৩ লিটার (১০ লিটার পেট্রোল ও ৩ লিটার ডিজেল) জ্বালানি তেল পান। এ সময় অবৈধভাবে পাচারের অভিযোগে ম্যানেজার একরামুল হক, চালক শ্রীকৃষ্ণ এবং চালক সহকারী রিফাতকে ৬ মাসের কারাদন্ড ও তিনজনকে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন।

ঘটনার প্রতিবাদ ও শ্রমিকদের অবিলম্বে মুক্তির দাবিতে রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করে। সকাল ৮টা থেকে পার্বতীপুরের রেলহেড অয়েল ডিপো থেকে সব ধরনের জ্বালানি তেল উত্তোলন বন্ধ রেখে ট্যাংকলরি শ্রমিকরা আন্দোলন কর্মসূচিতে নামে। এর ফলে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।

-প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন দেশ রূপান্তরের সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিরা।