সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ২০২০-২১ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ না করেই প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেন মোতাহার হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী। গতকাল রবিবার সকালে সেই অভিযোগের তদন্তে আসেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. আব্দুর রশিদ ও সিরাজগঞ্জ জেলার ডিআরও আব্দুল বাছেদ। তারা সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পিআইও আবুল কালাম আজাদকে নিয়ে তার অফিস কক্ষে দীর্ঘ গোপন মিটিং ও কিছু ফাইলপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করেন। এরপর আগে থেকে ঠিক করে রাখা পোরজনা ইউনিয়নের বাচড়া গ্রামের দুটি প্রকল্পের কাজ ঘুরে দেখেন। এরপর রবীন্দ্র কাছারিবাড়ি পরিদর্শন করে শাহজাদপুরের ভিআইপি মোটেলে খানাপিনা করে উপহার ও উপঢৌকন নিয়ে বিদায় নেন তদন্ত কর্মকর্তা।
এদিকে এদিন মো. আব্দুর রশীদ তদন্ত করতে এসে পিপিডি মোটেলে দুপুরের খাবার ও শাহজাদপুর পিআইও অফিসের স্টাফ আলতাফ হোসেনের মাধ্যমে উপহার গ্রহণের ঘটনা জানাজানির পর স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। সবাই বলছিলেন তাহলে কি এবারও পার পেয়ে যাবেন দুর্নীতিবাজ আজাদ ও তার পিয়ন মোশাররফ।
মোতাহার হোসেনের অভিযোগ থেকে জানা যায়, দূর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ২০২০-২১ অর্থবছরের নদীভাঙন এলাকার ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিশেষ বরাদ্দকৃত ৪৬ লাখ টাকা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ন প্রকল্পের মাটি ভরাট বাবদ ১৫০ মে.টন গম, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের কাবিটা এবং টিআর কর্মসূচির মোট বরাদ্দের ২০ শতাংশ রিজার্ভ ১ কোটি ২৩ লাখ ৮২ হাজার টাকা, কাবিখার ২০ শতাংশ রিজার্ভসহ মোট ২ কোটি ১৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন পিআইও আজাদ। এ নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. মোতাহার হোসেন ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল এ তদন্ত হয়।
এদিকে মোতাহার হোসেনকে ফোনে না পাওয়ার অজুহাতে তার বক্তব্য ছাড়াই তদন্ত সম্পন্ন করার চেষ্টা চলে। খবর পেয়ে মোতাহার হোসেন মোটেলে গিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুর রশিদের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তদন্ত কর্মকর্তা তার কাছে লিখিত বক্তব্য চান। তিনি বলেন, আমার অভিযোগপত্রেই তো বিস্তারিত উল্লেখ করা আছে। আরও কিছু জানার থাকলে প্রশ্ন করতে পারেন। এ সময় তাকে ঢাকায় তার অফিসে সশরীরে হাজির হয়ে অথবা ডাকযোগে লিখিত বক্তব্য পাঠানোর পরামর্শ দিয়ে বিদায় করে দেন। মোতাহার বলেন, আমার অভিযোগের তদন্তে এসে আমার কথা না শুনে উনি কী তদন্ত করবেন। উনি তো আগেই পিআইওর অর্থের কাছে ম্যানেজ হয়ে গেছেন। তিনি জানান, ২০২০-২১ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ না করেই প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন পিআইও আবুল কালাম আজাদ। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কারণেই মো. আব্দুর রশীদ পিআইও আবুল কালাম আজাদের দুর্নীতির তদন্তে এসেছেন। অথচ পিআইওকে সঙ্গে নিয়ে পিপিডি মোটেলে বসে দুপুরের রাজকীয় খানাপিনা সেরে ও পিআইওর সঙ্গে গোপন বৈঠক শেষ করে উপহার সামগ্রী নিয়ে বিদায় নিলেন। যা অন্যায়। আমার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে এসে উল্টো আবারও আমার কাছে লিখিত চাওয়ার অর্থ পিআইওকে কৌশলে রক্ষা করার প্রক্রিয়া বলে আমি মনে করি।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পরিচালক মো. আব্দুর রশীদকে দেওয়া উপহার সামগ্রীর বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে পিআইও অফিসের স্টাফ মো. আলতাব হোসেন এসব প্রশ্ন না করার অনুরোধ করে বলেন, ‘আমরা এমনিতেই বেকায়দায় আছি।’ আর ঝামেলায় ফেলবেন না।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পরিচালক মো. আব্দুর রশীদের কাছে তদন্তের বিষয়ে জানতে পিপিডি মোটেল অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, আমি এ বিষয়ে কোনো কথা বলব না। এই বলে তিনি দ্রুত গাড়িতে উঠে স্থান ত্যাগ করেন।