নকলায় শিলাবৃষ্টিতে লন্ডভন্ড ভুট্টাক্ষেত

শেরপুরের নকলায় কয়েক দিনের টানা বজ্রসহ শিলাবৃষ্টিতে মারাত্মœক ক্ষতিগ্রস্ত ভুট্টা চাষীরা, লন্ডভন্ড হয়ে গেছে ভুট্টা ফসল। হঠাৎ করেই শুরু হয় বৃষ্টি, তারপর বজ্রপাতসহ শিলাবৃষ্টি। চলতি মৌসুমের মার্চ মাসে কয়েক দিনের আকস্মিক শিলাবৃষ্টি ও দমকা হাওয়া যেন ভুট্টাচাষিদের মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলার পাঁঠাকাটা, চন্দ্রকোনা, নারায়ণখোলা এবং উরফা ইউনিয়নে মাঠের পর মাঠ ভুট্টা ক্ষেত লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। পরিপক্ব হওয়ার আগেই ভুট্টা গাছ ভেঙে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। এতে কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। প্রতি বিঘা জমিতে ২০-২৫ হাজার টাকার বেশি ক্ষতির আশঙ্কা করছেন প্রান্তিক চাষিরা, যার ফলে তাদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। ফসল ঘরে তোলার ঠিক কয়েক দিন আগে এমন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষিরা। অনেক কৃষক বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে ভুট্টা চাষ করেছেন আবার অনেকে সার, কীটনাশক বাকি নিয়ে ভুট্টা চাষ করেছিলেন এখন তারা পথে বসার উপক্রম।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আ. ওয়াহেদ খান জানিয়েছেন, নকলা উপজেলায় প্রায় ২২ শত ২০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। প্রাথমিক জরিপে ৯ হেক্টর জমির ভুট্টা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। তবে কোনো সহায়তা বা ক্ষতিপূরণের আশ্বাস নেই কৃষি বিভাগ থেকে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। হেক্টর প্রতি উৎপাদন হয় সাড়ে ৯ টন। প্রতি টন ভুট্টার সরকারি দাম নির্ধারণ করা হয় ২৫ হাজার টাকা। বাস্তবে প্রাথমিক ক্ষতির জরিপের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

কৈয়াকুড়ি গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, এসডিএফ থেকে ৭০ হাজার ঋণ নিয়ে ভুট্টা চাষ করেছিলেন, শিলাবৃষ্টিতে ভুট্টাক্ষেত পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দিচ্ছে এনজিও প্রতিষ্ঠান।

পাঁঠাকাটা ইউনিয়নের মুছা মিয়া ৭৫ শতাংশ জমিতে ভুট্টা চাষের জন্য এসডিএফ থেকে ১ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন, শিলাবৃষ্টিতে সব ভুট্টা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কিস্তি পরিশোধের হতাশায় ভুগছেন তিনি। মো. আফছর আলী ৩২০ শতাংশ জমিতে ভুট্টা চাষ করেছিলেন, সব তছনছ করে দিয়েছে শিলাবৃষ্টি।

ঋণের বিষয়ে সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন(এসডিএফ) এর উপজেলা কর্মকর্তা নরেশ রাম বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেব।