বাড়ছে হাম, প্রতিকারে কী করবেন

হাম একটি সংক্রামক রোগ, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এর প্রধান প্রতিকার হলো টিকা নেওয়া (MMR) এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত আইসোলেশনে রাখা। এটি মূলত শিশুদের আক্রান্ত করে। হাম সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তি যখন কথা বলেন— কাশেন বা হাঁচি দেন, তখন ক্ষুদ্র জলকণা  বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্যকে সংক্রমণ করে। 

দেশজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হাম রোগের সংক্রমণ। আর এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি। অনেক শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি বা ইপিআই থেকে বাদ পড়ে যাওয়ায় তাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়নি। সঠিক সময়ে টিকা নিলে এসব প্রাণঘাতী ঝুঁকি থেকে প্রায় শতভাগ সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব।

সব ক্ষেত্রে হাম মারাত্মক না হলেও কিছু ক্ষেত্রে এটি জটিল রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের জন্য ঝুঁকি বেশি। হামের জটিলতার মধ্যে রয়েছে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, চোখের সংক্রমণ, এমনকি বিরল ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে প্রদাহ। এই জটিলতাগুলোই অনেক সময় মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই হাম থেকে বাঁচতে টিকা দেওয়া জরুরি।

বাংলাদেশে শিশুদের জন্য জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে হাম প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়। তবে সরকারি ইপিআই কর্মসূচির বাইরেও বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে হামের টিকা পাওয়া যায়। সাধারণত বেসরকারি পর্যায়ে এমএমআর (মিজেলস, মাম্পস, রুবেলা) টিকা দেওয়া হয়, যা হামের পাশাপাশি মাম্পস ও রুবেলা থেকেও সুরক্ষা দেয়। শিশুদের ক্ষেত্রে সাধারণত দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়। প্রথম ডোজ দেওয়া হয় ৯ মাস পূর্ণ হলে এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫ মাস বয়সে। যারা শৈশবে টিকা নেয়নি, তারা অন্তত ২৮ দিনের ব্যবধানে দুটি ডোজ নিতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, টিকা না নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। আর একই ঘরে বসবাসকারী ৯০ শতাংশ মানুষ আক্রান্ত হতে পারে।

কোনো শিশুর জ্বর এবং শরীরে র‍্যাশ দেখা দিলে তা হাম হোক বা না হোক, চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। শিশুর শরীরে র‍্যাশ দেখা দেওয়ার দিন থেকে অন্তত পাঁচ দিন অন্যদের কাছ থেকে আলাদা রাখতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে।