আসামির খাবারের টাকা আত্মসাৎ: সেই পুলিশ কর্মকর্তা ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত সেই কর্মকর্তা অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) কামরুল হাসান ও তাঁর স্ত্রী সায়মা হাসানের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 

বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় দুদকের চট্টগ্রাম কার্যালয়ে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম মামলা দুটি করেন। 

অভিযুক্ত সাবেক এ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে প্রায় ২০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদক চট্টগ্রামের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ বুধবার রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা কামরুল হাসান ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ২০২৩ সালে হাজতখানায় আসা আসামির খাবারের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠায় তৎকালীন পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রতিবেদনে আসামিদের খাবারের বরাদ্দ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া যায়। 

অভিযোগ উঠার পর সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীর সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধানে দুজনের নামে ১১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য পায় দুদক। ২০২৪ সালের ৯ জুলাই তাঁদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ হস্তান্তর রোধে আদালতে ক্রোকের আবেদন করে দুদক। আদালত তা মঞ্জুর করেন।

জানা গেছে, কামরুল হাসান ১৯৮৯ সালে উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে পুলিশে যোগ দেন। পরে পদোন্নতি পেয়ে হাটহাজারী ও বাঁশখালীসহ বিভিন্ন থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) পদে কর্মরত অবস্থায় তাঁকে বদলি করা হয়। 

দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কামরুল হাসানের নামে চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী এলাকায় একটি বাড়ি এবং খুলশী এলাকায় ডিআইজি কার্যালয়ের পাশে ২ হাজার ৫৭০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার মূল্য কয়েক কোটি টাকা। ফ্ল্যাটটি থেকে মাসে প্রায় ৭০ হাজার টাকা ভাড়া পান তিনি। এ ছাড়া অনন্যা আবাসিক এলাকায় একটি প্লট রয়েছে। ঢাকার সাভারে ‘সাভার সিটি সেন্টার’ ও ‘সাভার সিটি টাওয়ার’ নামের দুটি মার্কেটেও তাঁর মালিকানা রয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।

এছাড়াএ চট্টগ্রাম নগরে বাড়ি থাকার তথ্য গোপন করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) থেকে অনন্যা আবাসিক এলাকায় প্লট বরাদ্দ নেন তিনি। তাঁর স্ত্রী সায়মা হাসানের নামেও চারটি নৌযান রয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে কামরুল হাসানের নামে ১৭ কোটি ৬২ লাখ টাকার এবং তাঁর স্ত্রীর নামে ৩ কোটি ১৪ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দুজনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। তাঁদের নামে আরও কোনো সম্পদ রয়েছে কি না, তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছে দুদক।