মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ

আমিরাতে আরেক বাংলাদেশির মৃত্যু

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) বাংলাদেশের আরও একজন নাগরিক নিহত হয়েছেন। ইউএই কর্তৃপক্ষ একটি ড্রোন প্রতিহত করার সময় ওপর থেকে পড়া টুকরোর আঘাতে তিনি মারা গেছেন। দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা ডব্লিউএএম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।   

ডব্লিউএএম এক এক্স-পোস্টে বলেছে, একটি ড্রোন প্রতিহত করার সময় ওপর থেকে পড়া শার্পনেলের আঘাতে বাংলাদেশ-বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। হরমুজ প্রণালির কাছে ফুজাইরাহ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

ইউএইর সরকারি বিবৃতির বরাত দিয়ে গালফ নিউজ এক প্রতিবেদনে বলেছে,  ড্রোনটি ভূপাতিত করার পর ধ্বংসাবশেষ ফুজাইরাহের আল-রিফা এলাকার একটি খামারে পড়ে। সে সময় একজন নিহত হন।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আগ্রাসন শুরু করে। ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সাহায্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আমেরিকার ঘাঁটি ও ইসরায়েল পাল্টা হামলা শুরু করলে যুদ্ধ বেধে যায়। এবারকার যুদ্ধের শিকার হয়ে বাংলাদেশের এ পর্যন্ত ৬ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন। তারা ইউএই, বাহরাইন, কুয়েত ও সৌদি আরবে প্রাণ হারান।  

ট্রাম্পের দাবি : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ‘ইরানের নতুন সরকারের প্রেসিডেন্ট আমেরিকার কাছে যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ করেছেন। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি করেন। ইরানের কর্মকর্তার নাম উল্লেখ না করে তাকে তার পূর্বসূরিদের তুলনায় ‘অনেক কম উগ্রপন্থি এবং অনেক বেশি বুদ্ধিমান’ বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি যখন উন্মুক্ত, অবাধ ও বিপদমুক্ত হবে, তখন আমরা এটি (যুদ্ধবিরতির কথা) বিবেচনা করব। তার আগ পর্যন্ত আমরা ইরানকে ধ্বংস করে দিচ্ছি, অথবা তারা যেমনটা বলে, পাথর যুগে পাঠিয়ে দিচ্ছি।’

ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির চুক্তির জন্য হরমুজ প্রণালি মুক্ত এমন ঘোষণা দিতে  একতরফাভাবে এর আগে দুই দফায় ইরানকে ১৫দিন সময় দেন। আগামী ৬ এপ্রিল এই ১৫ দিন শেষ হচ্ছে।

ইরানের ৬ মাস যুদ্ধের প্রস্তুতি : ইরান যুদ্ধবিরতি চায়, ট্রাম্পের এমন দাবি নাকচ করে দিয়েছে ইরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, প্রয়োজনে যুদ্ধকে ছয় মাস বা তার বেশি সময় পর্যন্ত স্থায়ী করতে পারবে তার দেশ। আলজাজিরাকে  দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইরান কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজ করবে না এবং শত্রুদের দ্বারা আরোপিত সময়সীমা মেনে চলবে না।

আরাঘচি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনো কোনো সরাসরি আলোচনা বা চুক্তি হয়নি। তিনি বলেন, কিছু বার্তা বিনিময় হচ্ছে, তবে এটিকে আলোচনা বলা উচিত নয়। সব  যোগাযোগ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে হচ্ছে।

ইউএইর যুদ্ধের প্রস্তুতি : প্রথম উপসাগরীয় দেশ হিসেবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সামরিক অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরব কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ কথা বলেছে।

এতে বলা হয়, ইউএই তেল বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালিকে উন্মুক্ত করতে চায়।  সে জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিকভাবে সহায়তা করতে প্রস্তুত।

এক মাসের বেশি সময় ধরা চলা যুদ্ধে ইউএই প্রায় আড়াই হাজার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও  ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। এটি ইসরায়েলসহ এই অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর তুলনায় বেশি। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটির তেল উৎপাদনও অর্ধেকের বেশি কমে গেছে। পাশাপাশি দুবাই ও আবুধাবির শেয়ারবাজার প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য হারিয়েছে।

স্থল হামলায় ইসরায়েল যাবে না : ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভ জানিয়েছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্ভাব্য স্থল অভিযানে ইসরায়েলি বাহিনী অংশ  নেবে না। পেন্টাগন যখন এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনা করছে, ঠিক তখনই এই প্রতিবেদন প্রকাশ পেল। এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি স্থল হামলা চালায়, তবে তাতে ইসরায়েলি সৈন্যরা অংশ নেবে না। এতে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, এই ধরনের যে কোনো অভিযানের দায়িত্ব ইসরায়েল শুধু মার্কিন  সেনাদের ওপরই ছেড়ে দেবে।

বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের হুমকি হুতির : ইয়েমেনের ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি হুমকি দিয়েছে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা থামাতে প্রয়োজনে তারা  লোহিত সাগরের মুখে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব-আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেবে।

হুতিদের প্রভাবশালী নেতা মোহাম্মদ আল-বুখাইতির উদ্ধৃতি দিয়ে আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিরা বর্তমানে দক্ষিণ ইসরায়েলে তাদের হামলা  জোরদার করছে। সামরিক সংঘাত আরও বাড়ানোর জন্য তাদের সামনে অনেক বিকল্প ও ধাপ রয়েছে। তার মতে, এর মধ্যে অন্যতম একটি বিকল্প হতে পারে বাব আল-মান্দেব প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া।

ইরাক-কুয়েত সীমান্তের প্রতি হুমকি : ইরাকভিত্তিক প্রতিরোধ গোষ্ঠী কাতাইব সাইয়্যেদ আল-শুহাদা যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইরানে হামলার জন্য কুয়েতের ভূখণ্ড ব্যবহার করা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। প্রয়োজনে কুয়েত-ইরাক সীমান্ত ভেঙে ফেলা হবে। খবর প্রেস টিভির।

গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানায়, কুয়েতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানে হামলা কিংবা সিরিয়ার ভূখণ্ড ব্যবহার করে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হলে তা আঞ্চলিক সীমান্ত লঙ্ঘনের শামিল হবে। সে  ক্ষেত্রে ইরাক-কুয়েত সীমান্ত ভেঙে দিয়ে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 মোজতবা খামেনি ইরানেই আছেন : ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনি নিযুক্ত হওয়ার প্রায় এক মাস কেটে গেলেও এখন পর্যন্ত বিশ্ববাসী তাকে জনসম্মুখে দেখেনি। সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বেশ কিছু বিবৃতি দিলেও সেগুলো কেবল ইরানের জাতীয় টেলিভিশনে পাঠ করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় প্রকাশ্যে না আসায় তার স্বাস্থ্য এবং অবস্থান নিয়ে বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়েছে নানা গুঞ্জন। তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ইরানে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত অ্যালেক্সি  দেদোভ জানান, মোজতবা খামেনি ‘ইরানেই অবস্থান’ করছেন।

আরটিভিআই সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গতকাল বুধবার তিনি বলেন, সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দেশেই আছেন, তবে কিছু ‘বোধগম্য কারণে’ তিনি বর্তমানে জনসম্মুখে আসা এড়িয়ে চলছেন।