হরমুজ দিয়ে আসবে সার

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের কারণে যুদ্ধকবলিত হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশের জ্বালানি ও এলএনজিবাহী ছয়টি জাহাজের নিরাপদ পারাপারের অনুমোদন দিয়েছে ইরানের নিরাপত্তা পরিষদ। ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সার আমদানিতে নতুন সম্ভাবনা দেখছে সরকার। ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সার আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা নিয়ে ব্যাপক শঙ্কা তৈরি হয়। কারণ বাংলাদেশ চাহিদার বেশিরভাগ সারই আমদানি করে এবং এর বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। গত বুধবার ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি বলেছেন, বাংলাদেশ একটি বন্ধুপ্রতিম ও মুসলিম দেশ এবং এর জনগণ আমাদের ভাইয়ের মতো। ইরান চায় না বাংলাদেশিরা কোনো কষ্টে পড়ুক এবং হরমুজ দিয়ে জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে আমরা প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করব। এর আগে গত ২৫ মার্চ জ্বালানি বিভাগ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বাংলাদেশগামী ছয়টি জাহাজের একটি বিস্তারিত তালিকা দেয়। এর মধ্যে কাতার থেকে আসা পাঁচটি এলএনজি চালান এবং সৌদি আরব থেকে একটি অপরিশোধিত তেলের কার্গো রয়েছে। এসব জাহাজে প্রায় ৫ লাখ টন এলএনজি এবং প্রায় ৭৯ হাজার টন অপরিশোধিত তেল বহন করা হচ্ছে।

নতুন এই পদক্ষেপের মধ্যপ্রাচ্য থেকে সার আমদানিতে সরকার যে শঙ্কায় পড়েছিল সেখান থেকে উত্তরণের আশা তৈরি হয়েছে। এই বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শুধু বিকল্প উৎসই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকেও সার আমদানির জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। এই চেষ্টায় নতুন সম্ভাবনা জাগিয়েছে জ্বালানির জাহাজ ছাড়ে। আমরা আশা করছি- জ্বালানির জাহাজ যেহেতু আসছে, সেহেতু সারের জাহাজও আনতে পারব।’

তিনি বলেন, আরব আমিরাতের সঙ্গে জিটুজি চুক্তি রয়েছে। তারা জানিয়েছে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলে এবং জাহাজ চলাচলের অনুমতি নিতে পারলে বাংলাদেশকে তিন লাখ টন সার সরবরাহ করবে দেশটি। তবে এর জন্য জাহাজ চলাচলের অনুমতিসহ যত প্রক্রিয়া সেটা বাংলাদেশকে সামলাতে হবে। এ জন্য কাজও শুরু হয়েছে। এখন তো আমাদের আশা আরও বেড়ে গেল সার আমদানির ক্ষেত্রে।

জানা গেছে, ইরান যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) এক লাখ টন করে দুটি দরপত্র আহ্বান করেছে এবং দুটিই আন্তর্জাতিক মানের উন্মুক্ত দরপত্র। গতকাল এই দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বিসিআইসি আগে তাদের নিবন্ধিত সরবরাহকারীদের মাধ্যমেই ইউরিয়া সার আমদানি করত। এবারে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়া এবং যুদ্ধের কারণে আমদানির উৎস সংকুচিত হওয়ায় উন্মুক্ত দরপত্র প্রদান করা হয়েছে। এর আগে সংস্থাটি একই প্রক্রিয়ায় আরও দুই লাখ টন সার আমদানির দরপত্র দিয়েছে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি মোট ৪ লাখ টন সার আমদানির দরপত্র দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত আগেভাগেই নেওয়া হচ্ছে যাতে করে সংকটে পড়তে না হয়।

বিসিআইসির চেয়ারম্যান মো. ফজলুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আগামী জুন পর্যন্ত সারের সংকট হবে না। তবে আসন্ন মিনি পিক সিজন অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৬ লাখ টন ইউরিয়া দরকার হয়। যা মোট চাহিদার ২৬ শতাংশ। এই সার সংগ্রহের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

জানা যায়, দেশে বছরে ২৬ লাখ টন ইউরিয়াসহ মোট প্রায় ৬৫ লাখ টন সারের চাহিদা রয়েছে।

বিসিআইসি সূত্র বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব, কাতার ও আরব আমিরাত থেকে সার আমদানি করে বাংলাদেশ। একদিকে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সমস্যা অন্যদিকে দাম বৃদ্ধি। প্রায় সাড়ে ৪০০ ডলারে বিক্রি হওয়া ইউরিয়া এখন প্রায় ৮০০ ডলার ছুঁয়েছে। হু হু করে বাড়ছে টিএসপি ও ডিএপির দাম।

কাতার ও আমিরাত থেকে শুধু ইউরিয়া এবং সৌদি আরব থেকে ইউরিয়া ও ডিএপি আনা হয়। হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য পরিবহন নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় বিকল্প উৎসগুলো থেকে বেশি পরিমাণ সার আমদানির জন্য ব্যাপক যোগাযোগ শুরু করেছে সরকার। বিকল্প দেশের তালিকায় রয়েছে, চীন, মিসর, রাশিয়াসহ অন্যান্য দেশ।