সুখবর পেলেন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকরা

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫১ এএম

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তিশ্রেণির আমানতকারীরা আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে তাদের হিসাবে থাকা মূল আমানতের পুরো অর্থ একসঙ্গে তুলে নিতে পারবেন। এ সুবিধা চলতি, সঞ্চয়ী ও মেয়াদি আমানত, সব ধরনের ব্যক্তিগত হিসাবের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে মূল আমানতের বাইরে কোনো মুনাফা বা সুদ দেওয়া হবে না।

গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী শায়রুল হাসান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমানের সাক্ষাৎকালে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, ড. মো. কবির আহাম্মদ, মো. সরোয়ার হোসেন ও মো. আনিছুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গভর্নর ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, গত বছরের ২৯ আগস্ট আমানতকারীদের জন্য একটি বিশেষ স্কিম চালু করা হয়েছিল। ওই স্কিমের আওতায় সীমিত পরিমাণ অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়। পরে চিকিৎসা, সন্তানের বিদেশে পড়াশোনা বা পারিবারিক জরুরি প্রয়োজনের মতো বিশেষ ক্ষেত্রে নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়। এখন নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ব্যক্তি আমানতকারীরা তাদের হিসাবের মূল জমাকৃত অর্থ পুরোপুরি তুলে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি আগের স্কিমের অতিরিক্ত একটি সুবিধা। অর্থাৎ আগের স্কিম অনুযায়ী যে অর্থ পাওয়ার সুযোগ ছিল, তার পাশাপাশি ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তিগত আমানতকারীরা তাদের মূল আমানত এককালীন তুলে নিতে পারবেন।

তবে কেউ চাইলে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকেই তার হিসাব চালু রাখতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে কোনো আমানতকারীকে হিসাব বন্ধ বা অর্থ তুলে নিতে বাধ্য করা হবে না। ব্যাংকের প্রতি আস্থা রেখে যারা আমানত ধরে রাখতে চান, তাদের জন্যও ব্যাংকের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। বৈঠকে ব্যাংকের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে, যা দেশের ব্যাংকিং খাতে ব্যতিক্রমী। রাষ্ট্রীয় মালিকানার ব্যাংক হিসেবে সাধারণ মানুষের আস্থা এবং ইসলামী ব্যাংকিংয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ, এই দুই বিষয়কে কাজে লাগিয়ে দ্রুত ব্যাংকটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

গভর্নর এ বিষয়ে ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। বৈঠকে ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের মধ্যে বিদ্যমান অনিশ্চয়তা দূর করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে ব্যাংকের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমানতকারীদের মধ্যে যে উদ্বেগ রয়েছে, তা দূর করে ব্যাংকটিকে স্বাভাবিক ও পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত