জ্বালানি আমদানির কারণে বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে

ব্যাপকমাত্রায় জ্বালানি আমদানির কারণে বাংলাদেশে ৫৯ শতাংশ পর্যন্ত বাণিজ্য ঘাটতি হচ্ছে। চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে এ ঘাটতি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা এমবার। সংকট কাটাতে দ্রুত সাশ্রয়ী ও টেকসই সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ‘দ্যা ইলেকট্রিক ফাস্ট-ট্র্যাক ফর ইমার্জিং মার্কেট’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশে সহযোগিতা করেছে ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম (সিভিএফ) ও ভি-২০।

প্রতিবেদনটি এমন একসময় প্রকাশ করা হলো, যখন বাংলাদেশ তীব্র জ্বালানি সংকটে ভুগছে। বিশেষ করে ব্যাপকভিত্তিক জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির চাপে জাতীয় অর্থনীতি যেমন চাপে আছে, তেমনি ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি না পেয়ে দেশজুড়ে দৈনন্দিন কর্মকা- ব্যাহত হচ্ছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে বাংলাদেশসহ বিশ্বের জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর  জ্বালানি আমদানি ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৫৫ বিলিয়ন ডলার। ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে চলতি বছর এ ব্যয় আরও ৩০ বিলিয়ন ডলার বেশি হতে পারে। গুরত্বপূর্ণ দিক হলো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অর্ধেকের বেশি দেশ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলেছে।

তবে এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম বাংলাদেশ। দেশটিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এখনো মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ৩ শতাংশ, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট থেকে বাংলাদেশকে সুরক্ষা দিতে পারছে না বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। 

চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম জাকির হোসাইন খান বলেন, ‘বাংলাদেশে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বৃদ্ধির চাপ ইতিমধ্যে পরিবার ও জাতীয় অর্থনীতিকে চাপে ফেলছে। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) পরিবারগুলো বছরে ৮৮ ডলার বন্যা মোকাবিলার জন্য সঞ্চয় করত, তা এখন জ্বালানি ও খাদ্যের দামের ৪০ শতাংশ বৃদ্ধিতে ব্যয় হয়ে যাচ্ছে।’