জাতিসংঘ মিয়ানমারের সামরিক সরকারের নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে সহায়তা দেওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তন এনেছে। গুরুত্বপূর্ণ এ পরিবর্তনের আওতায় তাদের ‘চাহিদাভিত্তিক’ সহায়তা দেওয়া হবে। এ পরিবর্তনের সূচনা করে কক্সবাজার ও ভাসানচরে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতে মাসিক খাদ্য সহায়তার জন্য তাদের ‘লক্ষ্য নির্ধারণ ও অগ্রাধিকার অনুশীলন’ (টিপিই) বাস্তবায়ন শুরু করা হয়েছে।
জাতিসংঘের বিশ^ খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) ঢাকা অফিস গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছে।
ডব্লিউএফপির ভাষ্য অনুযায়ী, টিপিই বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যদিও সব রোহিঙ্গা শরণার্থীই খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, তবে পরিবারভেদে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মাত্রা ভিন্ন। নতুন এ পদ্ধতির অধীনে, পরিবার-পর্যায়ের খাদ্য নিরাপত্তার চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হবে।
নতুন নিয়মানুযায়ী, কক্সবাজারে ‘চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায়’ ভোগা রোহিঙ্গা পরিবারগুলো জনপ্রতি প্রতি মাসে ১২ মার্কিন ডলারের খাদ্য সহায়তা পাবে। ভাসানচরে বসবাসকারী একই ধরনের রোহিঙ্গা পরিবারের সদস্যরা প্রতি মাসে জনপ্রতি পাবে ১৩ মার্কিন ডলারের খাদ্য সহায়তা, যা সেখানকার উচ্চ বাজারমূল্যকে প্রতিফলিত করে।
কক্সবাজারে ‘উচ্চ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায়’ ভোগা পরিবারগুলোর সদস্যরা পাবে জনপ্রতি প্রতি মাসে ১০ মার্কিন ডলারের খাদ্য সহায়তা। ভাসানচরে বসবাসকারী একই ধরনের পরিবারের সদস্যরা জনপ্রতি প্রতি মাসে পাবে ১১ মার্কিন ডলারের খাদ্য সহায়তা।
কক্সবাজারে ‘খাদ্য নিরাপত্তাহীন’ পরিবারগুলোর সদস্যরা জনপ্রতি প্রতি মাসে পাবে ৭ মার্কিন ডলারের খাদ্য সহায়তা। ভাসানচরে বসবাসকারী একই ধরনের পরিবারের সদস্যরা জনপ্রতি প্রতি মাসে পাবে ৮ মার্কিন ডলারের খাদ্য সহায়তা।
বাংলাদেশে ডব্লিউএফপির ভারপ্রাপ্ত মিশন পরিচালক সিমোন পার্চমেন্ট বলেন, ‘আমরা শিবিরের প্রত্যেককে খাদ্য সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখব। তবে যাদের এটি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তাদের জন্য সর্বোচ্চ স্তরের সহায়তা নিশ্চিত করব।’
ডব্লিউএফপি মনে করে, টিপিই মানবিক খাদ্য চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাদ্য সহায়তার আরও কার্যকর, ন্যায়সঙ্গত এবং আনুপাতিক বণ্টনকে সমর্থন করে। এর মাধ্যমে প্রত্যেকেই তাদের ন্যূনতম খাদ্য চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে। এ পদ্ধতিতে মৌলিক খাদ্য চাহিদা মেটাতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি বাধার সম্মুখীন পরিবারগুলো, যার মধ্যে রয়েছে শিশু পরিচালিত পরিবার, কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য ছাড়া নারী ও বয়স্ক পরিচালিত পরিবার এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিযুক্ত পরিবার সর্বোচ্চ স্তরের সহায়তা পেতে থাকবে।
ডব্লিউএফপি জানায়, সংস্থাটি আগামী নভেম্বর (২০২৬) মাস পর্যন্ত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য নিরবচ্ছিন্ন খাদ্য সহায়তা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হবে।