যশোরে মেরামত ও বিক্রি বেড়েছে ই-বাইকের

জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতার প্রভাবে যশোরে ইলেকট্রিক বাইকের (ই-বাইক) প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। অনেকেই নতুন করে ইলেকট্রিক বাইক কিনছেন, আবার কেউ দীর্ঘদিন নষ্ট হয়ে পড়ে থাকা বাইক মেরামতের জন্য গ্যারেজমুখী হচ্ছেন।

বিশেষ করে যারা দৈনন্দিন যাতায়াত বা পেশাগত কারণে নিয়মিত জ¦ালানি তেলচালিত মোটরসাইকেলের ওপর নির্ভরশীল, তারা ঝামেলা এড়াতে ইলেকট্রিক বাইকের দিকে ঝুঁকছেন।

স্থানীয় কয়েকজন বাইকার জানান, পেট্রোলের সংকট ও অনিশ্চয়তার কারণে মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে গিয়ে তারা ঝামেলায় পড়ছেন। অন্যদিকে ইলেকট্রিক বাইক ব্যবহারকারীরা ঘরে বসেই চার্জ দিয়ে সহজেই চলাচল করতে পারছেন।

এদিকে যশোরে ইলেকট্রিক বাইকের বিক্রিও বেড়েছে। একটি শোরুমের ম্যানেজার এহসানুল ফারুকি আবির জানান, আগে যেখানে মাসে ১০ থেকে ১৫টি বাইক বিক্রি হতো, সেখানে মার্চ মাসে বিক্রি বেড়ে ২৫ থেকে ৩০টিতে পৌঁছেছে।

পালবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ইমাম হাসান নাওহীদ জানান, মোটরসাইকেলের তেল কিনতে গিয়ে নিয়মিত বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছিল। পরে ইলেকট্রিক বাইক কিনে সেই সমস্যা থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

অন্যদিকে উপশহর এলাকার রাফি ই-বাইক সার্ভিসিং সেন্টারের স্বত্বাধিকারী আনিছুর রহমান জানান, তাদের গ্যারেজে ইলেকট্রিক বাইক মেরামতের সংখ্যাও বেড়েছে। গত ৩১ মার্চ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রায় অর্ধশত মাঠকর্মী তাদের ইলেকট্রিক বাইক সার্ভিসিং করিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকলে ইলেকট্রিক বাইকের চাহিদা আরও বাড়বে। এতে পুরনো বাইক মেরামত ও নতুন বাইক বিক্রি উভয়ই বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা করেন।

উপশহর এলাকার বাইক মিস্ত্রি মিজানুর রহমান বলেন, ইলেকট্রিক বাইকের প্রধান সমস্যাগুলো সাধারণত ব্যাটারি ও মোটরে দেখা যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গতি কমে যাওয়া, চার্জ ধরে না রাখা কিংবা মোটর থেকে অস্বাভাবিক শব্দ হওয়া এ ধরনের সমস্যায় ভোগেন অনেক ব্যবহারকারী। আর বর্তমানে জ¦ালানি তেল ক্রয় করতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। ফলে অনেকেই মেরামতের মাধ্যমে ইলেকট্রিক বাইককে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করে তুলছেন।