সিংড়ায় জং ধরা ফুটওভার ব্রিজে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

নাটোরের সিংড়া পৌরশহরের বাসস্ট্যান্ডে ২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ফুটওভার ব্রিজটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ব্রিজটি নির্মাণ করায় দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ৩৪ মিটার দৈর্ঘ্যরে ফুটওভার ব্রিজটি উদ্বোধন করা হয় ২০১৮ সালের ৫ নভেম্বর। ব্রিজটি নির্মাণ করতে সরকারের খরচ হয়েছে ২ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের পৌর বাসস্ট্যান্ডে পথচারীদের নিরাপদে পারাপারের জন্য ৮ বছর আগে নির্মাণ করা হয় এ ফুটওভার ব্রিজ। কিন্তু নির্মাণের পর থেকেই এটি ব্যবহার করছেন না অধিকাংশ মানুষ। ইতিমধ্যেই ব্রিজটি মরিচা ধরে খসে পড়ছে। পাটাতনে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিকেলে কিছু মানুষ বেড়ানোর উদ্দেশ্যে ব্রিজের ওপরে উঠে বাচ্চাদের নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাফেরা করেন। বিভিন্ন জায়গায় জং ধরার কারণে যে কোনো সময়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই ফুটওভার ব্রিজের কোথাও কোথাও মরিচা ধরেছে, আবার কোথাও ভাঙতে শুরু করেছে। দ্রুত রক্ষণাবেক্ষণ ও জনসচেতনতা না বাড়ালে পুরো অবকাঠামোটি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

রবিউল করিম খোকন নামের একজন পথচারী বলেন, আমার মনে হয় এর নির্মাণ সামগ্রী খুব নিম্নমানের হওয়ায় ব্রিজটি তাড়াতাড়ি নষ্ট হচ্ছে। আমি কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানাব যেন খুব তাড়াতাড়ি মেরামত করা হয়। তাছাড়া এখানে লোকজন এবং ছোট বাচ্চারা উঠলে যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

বাবুল হাসান বকুল বলেন, বাস টার্মিনালে নির্মিত এই ব্রিজটির নিচ দিয়ে লোকজন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে তাও ব্রিজটি ব্যবহার করছে না। এদিকে সঠিক ব্যবহার না হওয়ায় ব্রিজটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ব্রিজটি ব্যবহার করতে হলে খুব ঝুঁকি নিয়ে করতে হচ্ছে। কারণ মরিচা ধরে মাঝেমধ্যে ফুটো হয়ে গেছে।মৌসুমি খাতুন নামের একজন পথচারী বলেন, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে ব্রিজটি নির্মাণ করায় এবং যথাযথ ব্যবহার না হওয়ায় ব্রিজটি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। মাঝেমধ্যে ভঙ্গুর অবস্থায় মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে।

স্থানীয় দোকানি মো. জান্টু বলেন, ব্রিজের বিভিন্ন অংশ ফুটো হয়ে গেছে। ছোট বাচ্চারা উঠলে ফুটো স্থান দিয়ে পড়ে যেতে পারে। এতে করে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। পথচারী মো. বাপ্পি বলেন, যদিও ওভারব্রিজে কম ওঠা হয়। তারপরেও মাঝেমধ্যে বাচ্চা নিয়ে উঠি। বর্তমানে ওভারব্রিজের পরিস্থিতি তেমন ভালো না, কোনো নিরাপত্তা নেই।

সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, ‘সিংড়ার মানুষের নিরাপদে পারাপারের জন্য ২০১৮ সালের সড়ক বিভাগ একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করে। গত ৮ বছরে বিভিন্ন কারণে ব্রিজটিতে জং ধরেছে। আমরা ইতিমধ্যেই তা দেখেছি এবং নাটোর জেলা সড়ক বিভাগকে অবহিত করেছি।’