শ্রীলঙ্কার কাছে হেরেই গেল বাংলাদেশ

হকিতে শ্রীলঙ্কার চেয়ে ঢের এগিয়ে বাংলাদেশ। অথচ সেই শ্রীলঙ্কার কাছেই দুই যুগ পর হারের তেতো স্বাদ পেতে হয়েছে আমিরুল ইসলামদের। এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের প্রথম ম্যাচটা বাংলাদেশ জিতেছিলে চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে ৪-৩ কষ্টের জয়ে। সেই ম্যাচের পর বাংলাদেশের সামর্থ্য নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়। গতকাল শুক্রবার সেই শঙ্কাটাই সত্য হলো। শ্রীলঙ্কার কাছে হারতে হলো ৩-২ ব্যবধানে। ২০০৬ সালের কলম্বো এসএ গেমসের পর বাংলাদেশকে হকিতে প্রথম হারের স্বাদ দিয়েছেন লঙ্কানরা। এই হারে সেপ্টেম্বরে জাপানের আইচি-নাগোয়ায় হতে যাওয়া এশিয়ান গেমসের টিকিট কিছুটা হলেও কঠিন হলো বাংলাদেশের জন্য।

অতীতে বরাবরই বাছাই উতরে গেমসে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ হকি  দল। চাইনিজ তাইপেকে হারিয়ে শুরুর পর মনে হচ্ছিল সহজেই বাছাইয়ের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করবে বাংলাদেশ। তবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এমন হার কিছুটা হলেও বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে বাংলাদেশকে। জাতীয় হকি দলের সাবেক অধিনায়ক মামুনুর রহমান চয়নও এমন হারে বিস্মিত, ২০০৬ সালে এক ম্যাচ হারের পর আমরা শ্রীলঙ্কার কাছে আর কখনও হারিনি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আমার এক ম্যাচে ৫ গোলও রয়েছে। টুর্নামেন্টে এমন একটা বাজে দিন আসতেই পারে। আশা করছি, পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ এশিয়ান গেমস নিশ্চিত করবে এবং বাছাইয়ে চ্যাম্পিয়ন হবে।’

এশিয়ান গেমসে বাছাই টুর্নামেন্টে দলের প্রধান কোচ সাবেক জাতীয় খেলোয়াড় আশিকুজ্জামান। দলের এমন হারের ব্যাখ্যা দিয়েছেন কোচ, ‘ডিপ ডিফেন্স আমাদের ঠিকমতো হয়নি। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় মার্কিংয়ে সমস্যা ছিল। টানা দুই দিন দুই ম্যাচ, গরমের মধ্যে খেলাটা সহজ নয়। তবে সেটা অজুহাত নয়। হারের দায় কোচ হিসেবে আমি নিচ্ছি।’

বাংলাদেশের গ্রুপে ইতোমধ্যে শ্রীলঙ্কার ৬ পয়েন্ট। চাইনিজ তাইপে শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারালে তাদেরও ৬ পয়েন্ট হবে। তাই এশিয়ান গেমসে খেলতে হলে শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানকে বড় ব্যবধানে হারাতে হবে বাংলাদেশকে। সেই ম্যাচে জয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করে আশিকুজ্জামান বলেন, ‘৬ এপ্রিল উজবেকিস্তানকে হারাতে আমরা বদ্ধপরিকর। এই ম্যাচের ভুল কাটিয়ে উজবেকিস্তানকে হারিয়ে আমরা এশিয়ান গেমস নিশ্চিত করতে চাই।’

এদিকে ম্যাচে শুরু থেকেই শ্রীলঙ্কা সমান্তালে লড়েছে। ম্যাচের ৬ মিনিটে তারা লিডও পায়। প্রথম কোয়ার্টারের শেষদিকে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে ম্যাচে সমতা আনেন আশরাফুল। দ্বিতীয় কোয়ার্টারের শুরুতে শ্রীলঙ্কা আবার লিড নেয়। তৃতীয় কোয়ার্টারে কোনো দলই গোল করতে পারেনি। চতুর্থ কোয়ার্টারের ৪ মিনিটে শ্রীলঙ্কা ব্যবধান বাড়িয়ে ৩-১ করে। শ্রীলঙ্কা গোল করার পরের মিনিটেই পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করেন বাংলাদেশের আমিরুল। বাকি ১১ মিনিট বাংলাদেশ সমতার শত চেষ্টা করেও পারেনি।