বেশ কিছুদিন ধরেই বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচ জেরার্ড জোন্সকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। কদিন আগে বেতন পাওয়া দেরি হওয়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন, যা নিয়ে কথা বলতে হয়েছিল স্বয়ং বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালকে। এরপর সোমবার চাউর হয়, কদিন আগে ক্যাম্পে হাতাহাতি হয়েছে জেরার্ডের সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুর সঙ্গে। এ বিষয় নিয়ে গতকাল সকাল আবার ফেসবুকে ভিডিও পোস্ট দিয়ে জোন্স নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। এ পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর গুঞ্জন ছড়ায়, ব্রিটিশ কোচ জেরার্ড জোন্সকে বহিষ্কার করেছে বাফুফে। কিন্তু সকাল গড়িয়ে দুপুর হতেই জানা যায় জোন্সকে ঠিক বহিষ্কার নয়, ওএসডি করেছে বাফুফে। আর ঘটনাটা ঘটছে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বে অংশ নিতে বাংলাদেশ দলের উজবেকিস্তান যাওয়ার আগের দিন।
বাফুফের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, একের পর এক বিতর্কে জড়ানো ইংলিশ এই কোচের সঙ্গে আর কাজ চালিয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বাফুফের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান কামাল হাসান হিলটন গতকাল রাতে স্পষ্ট জানিয়েছেন বহিষ্কারের খবর সঠিক নয়। শৃঙ্খলার বিঘœ ঘটেছে এবং বাফুফে এ বিষয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে, ‘মিডিয়া বা সামাজিক মাধ্যমে যে বিষয়টি এসেছে, তার ৫০ ভাগ সত্য, ৫০ ভাগ মিথ্যা। তবে একটা ঘটনা ঘটেছে এবং শৃঙ্খলা বিঘœ ঘটেছে। সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এ বিষয়ে একটা ব্যবস্থা তো নেবেই।’ সংশ্লিষ্ট কোচের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নে তিনি জানান, ‘কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা এখনো বাফুফে সভাপতি এবং আমাদের কর্মকর্তারা বসে সিদ্ধান্ত নেবেন।’ জোন্স নিজেও ফেসবুকে আরেক ভিডিও পোস্টে দাবি করেছেন, তাকে বহিষ্কারের সব মিথ্যা খবর। আমি এখনো কোচ হিসেবেই রয়েছি।
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের উজবেকিস্তানে গুরুত্বপূর্ণ সফরের মাত্র এক দিন আগে কোচ পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে দলের প্রস্তুতি নিয়েও তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। আপাতত জোন্সের জায়গায় দলের দায়িত্ব সামলাবেন সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশু। তবে কোচিং স্টাফে আরও পরিবর্তন আসতে পারে বলেও জানা গেছে। গত জুনে দুই বছরের চুক্তিতে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের দায়িত্ব নেন উয়েফা ‘এ’ লাইসেন্সধারী জেরার্ড জোন্স। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই অবশ্য মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে নানা অভিযোগ ও বিতর্কের কারণে বেশি আলোচনায় ছিলেন তিনি।
যশোরে দলের ক্যাম্প চলাকালে বকেয়া বেতন ও নিরাপত্তা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন জোন্স। তার এসব অভিযোগ বাফুফেকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে। এরপর ঢাকার টিম হোটেলে সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুর সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ওই ঘটনায় জোন্স জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। গতকাল ভিডিও পোস্টে ওই ঘটনার বিষয়ে জোন্স বলেন, ‘আমি সম্প্রতি কর্মক্ষেত্রে একটি গুরুতর ঘটনার শিকার হয়েছি যেখানে এক হামলায় আমি শারীরিক আঘাত পেয়েছি এবং আমাকে আত্মরক্ষা করতে হয়েছে। আমি এও জানি যে কিছু ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে যা একেবারেই সত্য নয় এবং যা দেশের সুনামের জন্য ক্ষতিকর পাশাপাশি আমাকেও বিপদের মুখে ফেলে দিচ্ছে।’
ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে এর আগেও একাধিকবার সংশ্লিষ্ট মহলে শঙ্কা প্রকাশ করে সাহায্য চেয়েছেন, যার সুরাহা এখনো হয়নি বলে অভিযোগ করেন জোন্স। চলমান এই ঘটনায় তার পরিবার ও সন্তানরাও বেশ আতঙ্কিত বলে জানান। তবে সব বিতর্ক পেছনে ফেলে আসন্ন উজবেকিস্তান সফরকে সামনে রেখে দল যেন সম্পূর্ণরূপে ফুটবলেই মনঃসংযোগ ধরে রাখে, সেই আহ্বান জানিয়েছেন এই ব্রিটিশ কোচ।