বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের বাসিন্দা এস এম তারেকের দফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জানাজা শেষে হালিশহরের ঈদগাহ বউবাজার এলাকার কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় তার মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছায়। এরপর রাত আড়াইটার দিকে মরদেহ নগরের হালিশহর ঈদগাহ বউবাজার এলাকার ভাড়া বাসায় নেওয়া হয়। এসময় স্ত্রী রোকেয়া বেগম ও একমাত্র মেয়ে তাসনিম তামান্না কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এদিকে, তারেককে একনজর দেখতে তার ভাড়া বাসায় আত্নীয়-স্বজন ও প্রতিবেশিরা ভিড় জমান। তাছাড়া তারেকের এমন মৃত্যু মানতে পারছেন না এলাকাবাসী।
শনিবার দুপুর ২টার দিকে তারেকের হালিশহরের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, পাঁচতলা একটি ভবনের তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে থাকেন নিহত তারেকের স্ত্রী ও একমাত্র মেয়ে তাসনিম। সবেমাত্র দাফন শেষ করে বাসায় ফিরেছেন তারেকের আত্নীয় স্বজনেরা। সবাই শোকাহত। একমাত্র মেয়ে তাসনিমকে শান্তনা দিচ্ছেন স্বজনেরা৷
তারেকের স্বজন আব্দুল হাকিম জানান, কফিন খোলার জন্য চিকিৎসকদের নিষেধ থাকায় শুক্রবার রাতে কেউ তারেকের চেহারা দেখতে পাননি। শনিবার সকাল ১১টায় জানাজার আগে স্ত্রী, মেয়েসহ কিছু স্বজনের জন্য কফিন খোলা হয়। এ সময় স্বামীর বিকৃত মরদেহ দেখে স্ত্রী ও মেয়ে তাসনিম অঝোর কাঁদেন থাকে।
পারিবারিক সূত্র জানা গেছে, গত ১ মার্চ দিবাগত রাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন তারেক। মরদেহ দাফনের জন্য প্রাথমিকভাবে ৩৫ হাজার ও পরিবারের জন্য ৫০ হাজার টাকা দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। সরকারের তরফ থেকে আরও ১০ লাখ টাকা দেওয়া হবে। স্থানীয় সংসদ সদস্য তারেকের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তারেকের মেয়ের পড়ালেখার দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি।