চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কসংলগ্ন পদুয়া ইউনিয়নের বার আউলিয়া এলাকায় ১২ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয় লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টার। কিন্তু উদ্বোধনের ১২ বছর পার হলেও জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে এখনো চালু হয়নি সেন্টারটি। এতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে প্রতিদিন দুর্ঘটনার শিকার বিভিন্ন যাত্রীসহ স্থানীয়রা দ্রুত সুচিকিৎসা বঞ্চিত হচ্ছেন। বেড়েছে মৃত্যুর সংখ্যাও। তবে বর্তমান স্থানীয় সংসদ সদস্যের আশ্বাস, ট্রমা সেন্টারটি চালুর দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন তিনি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটননগরী কক্সবাজারে আসা-যাওয়ার পথে লোহাগাড়া অংশে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হন মানুষ। তাই সময়মতো চিকিৎসা পেতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের মাঝামাঝি লোহাগাড়ায় ২০০৭ সালের জুন মাসে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এ ট্রমা সেন্টারের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১২ সালে এর নির্মাণকাজ শেষ হয়। ২০১৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ট্রমা সেন্টারটি উদ্বোধন করেন। প্রতিদিন এ ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসা নিতে গড়ে ২৫-৩০ জন চিকিৎসা নিতে এসেও অধিকাংশ রোগী ফেরৎ যান জরুরি চিকিৎসা, জটিল অপারেশন বা দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসাসেবা না থাকার কারণে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, তিন তলাবিশিষ্ট এ হাসপাতালে রয়েছে ২০টি শয্যা। এর মধ্যে বিশেষ কেবিন (ভিআইপি) দুটি এবং সাধারণ শয্যা ১৮টি। ভবনে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ রয়েছে। জনবল কাঠামো অনুযায়ী এ ট্রমা সেন্টারে ১০ জন চিকিৎসক ও ১৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা এইচ এম শারপু সিকদার বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দুর্ঘটনার শিকার হই। কিন্তু লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টারটি চালু না থাকায় চট্টগ্রাম শহরে গিয়ে আমার চিকিৎসাসেবা নিতে হয়। এতে প্রায় ৬ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।’
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহ্উদ্দিন চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার গাড়ি চলাচল করে। কিন্তু গাড়ির তুলনায় সড়কটি সরু হওয়ায় এতে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। বিগত ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলা অংশে প্রায় ১১০টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ৮৮ জন মারা যান এবং ১৫২ জন মারাত্মক আহত হন। লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টার চালু থাকলে আহত রোগীরা দ্রুত সেবা পেত।
লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচও) ডা. ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘জনবল ও যন্ত্রপাতি না থাকার কারণে লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টারটি এক যুগ ধরে চালু করা যায়নি। তবে আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার মাধ্যমে বেসরকারি সংস্থা চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশানাল মেডিকেল কলেজের সহযোগিতায় ছোট-খাটো আহত রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদানের চেষ্টা করা হয়েছে। বর্তমানে আর্থিক সংকটের কারণে সেই ব্যবস্থা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। অথচ প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনা অথবা অন্য যে কারণে আহত রোগীরা চিকিৎসা নিতে এ ট্রমা সেন্টারে আসেন, কিন্তু পর্যাপ্ত জনবল ও যন্ত্রপাতি না থাকার কারণে তাদের চট্টগ্রাম শহরে স্থানান্তর করতে হয়।’
এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) বলেন, ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হন যাত্রীরা। সেই লক্ষ্যে লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টারটির কার্যক্রম আপাতত বেসরকারিভাবে চালু করেছিলাম। আমি বর্তমান সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করব, যাতে সরকারিভাবে এখানে যন্ত্রপাতি ও জনবল দেওয়া হয়। যাত্রীদের সুরক্ষা ও স্থানীয়দের সুচিকিৎসা অব্যাহত রাখতে এ ট্রমা সেন্টার কোনো অবস্থাতেই বন্ধ করা যাবে না।’