ওমরাহ ও জিয়ারাহ ফোরামে আলোচনার শীর্ষে এআই

সৌদি আরবের মদিনায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ওমরাহ ও জিয়ারাহ ফোরামে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ছিল আলোচনার শীর্ষে। গত ১ এপ্রিল আয়োজিত এ ফোরামে সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, ওমরাহ অপারেটর, বিনিয়োগকারী, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও আতিথেয়তা খাতের নেতারা একত্র হয়ে ওমরাহ ব্যবস্থাপনায় এআইয়ের বর্তমান প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

সৌদি প্রেস এজেন্সি প্রতিবেদনে বলা হয়, ফোরামের বিভিন্ন সেশন ও কর্মশালায় মূলত গুরুত্ব দেওয়া হয় কীভাবে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে হাজিদের অভিজ্ঞতা উন্নত করা যায়। পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন ও ডিজিটাল ব্যবস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে ওমরাহ ও জিয়ারাহ সেবাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনঘনিষ্ঠ ঐতিহাসিক স্থানগুলোকে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে সংরক্ষণ ও উপস্থাপনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।

প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠান ‘সাফা সফট’ তাদের উদ্ভাবিত এআই চালিত প্ল্যাটফর্ম yousr.com  উপস্থাপন করে, যা ওমরাহ প্যাকেজ খোঁজা, তুলনা করা ও বুকিংয়ের জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল অভিজ্ঞতা প্রদান করে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাম আল-আসালি জানান, এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভ্রমণকারীরা সহজেই প্রতিযোগিতামূলক দামে ওমরাহ প্যাকেজ বেছে নিতে পারবেন। এটি পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও ব্যবহারবান্ধব করে তুলবে।

তিনি আরও বলেন, ওমরাহ খাতে দীর্ঘদিন ধরে বুকিং প্রক্রিয়ার বিচ্ছিন্নতা ও মূল্য নির্ধারণে অস্বচ্ছতা ছিল একটি বড় সমস্যা। এআইভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম চালুর মাধ্যমে সেই সীমাবদ্ধতা দূর করে একটি সংযুক্ত ও স্বচ্ছ সেবা কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া ‘সাফা সফট’ তাদের আরও কয়েকটি প্রযুক্তিগত সমাধান তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে ‘সাফা ভিসা’, যা নিরাপদভাবে ভিসা ব্যবস্থাপনা সহজ করে। ‘ব্রাভো’, যা সৌদি ওমরাহ কোম্পানি ও সেবাদাতাদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। ‘ওটিএ’, যা ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে নিজস্ব বুকিং প্ল্যাটফর্ম তৈরির সুযোগ দেয়। এসব প্রযুক্তি একত্রে ওমরাহ যাত্রার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটি সমন্বিত ডিজিটাল কাঠামো গড়ে তোলে।

অন্যদিকে ডিজিটাল সমাধান প্রতিষ্ঠান ‘এলম’ হাজিদের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে একাধিক উদ্ভাবনী প্রযুক্তি উপস্থাপন করে। তাদের ‘নুসুক এআই’ বহুভাষিক নির্দেশনা প্রদান করে। আর ‘নুসুক মারহাবা’ স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে আগত হাজিদের জন্য সমন্বিত অভ্যর্থনা সেবা নিশ্চিত করে।

প্রিন্স মুকরিন বিশ্ববিদ্যালয়ের এআই বিভাগের প্রধান আহমেদ আল-হায়েক জানান, মদিনায় এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষের চলাচল বিশ্লেষণ, ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নামাজের সময়সূচি ও পরিবহন ব্যবস্থাপনায় উন্নত পরিকল্পনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বড় তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করে হাজিদের প্রয়োজন আগেভাগেই অনুমান করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি ‘মদিনা জিপিটি’ নামের একটি গবেষণা উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন, যা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে মহানবী (সা.)-এর জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত এক হাজারের বেশি ঐতিহাসিক স্থানকে সংযুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে দর্শনার্থীরা অডিও-ভিজ্যুয়াল ও বুদ্ধিদীপ্ত উপস্থাপনার মাধ্যমে ইতিহাসকে আরও জীবন্তভাবে অনুভব করতে পারবেন।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক