উম্মতের প্রতি দরদ

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৬ এএম

উম্মতের প্রতি নবীজি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দয়া, মায়া, ভালোবাসা ও দরদ ছিল তুলনাহীন। তার নবুয়তি জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে উম্মতের জন্য রয়েছে মমতার ছাপ। মক্কার পথে পথে তিনি মানুষকে আহ্বান করেছেন। নির্যাতন সহ্য করেছেন। অপমান সহ্য করেছেন। তবু মানুষের হেদায়েতের আশা ছাড়েননি। এমনকি যারা তাকে কষ্ট দিয়েছে, তাদের জন্যও কল্যাণের আশা করেছেন।

নবীজি (সা.) মানুষের হেদায়েতের ব্যাপারে কতটা ব্যাকুল ছিলেন, কোরআন তার সাক্ষ্য দেয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তারা ইমান না আনলে সম্ভবত আপনি তাদের পেছনে ঘুরে দুঃখে নিজেকে ধ্বংস করে ফেলবেন।’ (সুরা কাহফ ৬)

এই আয়াতের মধ্যে নবীজি (সা.)-এর হৃদয়ের গভীর অবস্থাটি ফুটে উঠেছে। তিনি মানুষকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানোর জন্য তাদের পেছনে পেছনে ঘুরেছেন। মক্কার মানুষ তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। উপহাস করেছে। নির্যাতন করেছে। কিন্তু তিনি তাদের জন্য বদদোয়া করেননি। তায়েফে তাকে রক্তাক্ত করা হয়েছে। পাথরের আঘাতে তার শরীর জর্জরিত হয়েছে। তখনো তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হেদায়েতের আশা করেছেন।

এখানেই নবীজি (সা.)-এর দরদের মহত্ত্ব। মানুষ তার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু তিনি মানুষের বিরুদ্ধে দাঁড়াননি। তিনি তাদের ভুলের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। তাদের ধ্বংস চাননি। চেয়েছেন তাদের ফিরে আসা।

নবীজি (সা.) উম্মতের জন্য এমন কিছু চাননি, যা তাদের অকারণে কষ্টে ফেলবে। তিনি সহজতার শিক্ষা দিয়েছেন। বলেছেন, ‘সহজ করো, কঠিন কোরো না। সুসংবাদ দাও, বিমুখ  কোরো না।’ (সহিহ বুখারি)

তিনি অসুস্থ মানুষের কথা ভেবেছেন। দুর্বল মানুষের কথা ভেবেছেন। বৃদ্ধ ও নারীর কথা ভেবেছেন। এমনকি ভবিষ্যতে যারা তার উম্মত হবে, তাদের কথাও ভেবেছেন।

মানুষের জীবনের শেষ মুহূর্তে সাধারণত নিজের কষ্টই সবচেয়ে বড় হয়ে ওঠে। কিন্তু নবীজি (সা.)-এর জীবনের শেষ সময়েও উম্মতের প্রতি তার মমতা প্রকাশ পেয়েছে।

তিনি উম্মতকে নামাজের ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। মানুষের অধিকার ও দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তার জীবনের শেষ দিকের উপদেশগুলোতে বারবার আল্লাহর ভয়, মানুষের অধিকার ও ইবাদতের গুরুত্ব এসেছে। এমন একজন নবীকে আমরা পেয়েছি, যিনি নিজের জন্য যতটা ভাবতেন, তার চেয়েও বেশি ভাবতেন উম্মতের পরিণতি নিয়ে।

উম্মতের প্রতি নবীজি (সা.)-এর দরদের সবচেয়ে বড় প্রকাশ দেখা যাবে কেয়ামতের দিন। সেদিন মানুষ ভয় ও উদ্বেগে থাকবে। সূর্য মানুষের খুব কাছে চলে আসবে। সবাই নিজের চিন্তায় ব্যস্ত থাকবে।

সেদিন মানুষ অনেকের কাছে সুপারিশের জন্য যাবে। কোনো কাজ হবে না। শেষ পর্যন্ত তারা নবীজি (সা.)-এর কাছে যাবে। তখন তিনি আল্লাহর অনুমতি নিয়ে সুপারিশ করবেন।

নবীজি (সা.) আমাদের ভালোবেসেছেন। আমাদের জন্য কেঁদেছেন। আমাদের হেদায়েতের জন্য চেষ্টা করেছেন। আখেরাতেও আমাদের জন্য সুপারিশ করবেন। তাহলে আমাদের দায়িত্ব কী?

আমাদের দায়িত্ব হলো তাকে ভালোবাসা। তার ওপর দরুদ পাঠ করা। তার সুন্নাহ অনুসরণ করা। তার চরিত্র নিজেদের জীবনে ধারণ করা। মানুষের প্রতি দয়া করা। দুর্বল মানুষের পাশে দাঁড়ানো। অন্যের কষ্টকে নিজের কষ্টের মতো অনুভব করা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত