হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসন ও বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের প্রতিবাদ

সিলেটে হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে নগরীর চৌহাট্টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। 

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘গত কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলায় অর্ধশত হাওরে অন্তত দুই হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। হাওরের ফসল রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।’

বক্তারা আরও বলেন, বোরো মৌসুমে অনাহুত পানি জমতে দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি পাহাড়ি ঢল যাতে হাওরে প্রবেশ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের গুরুত্বের উপর জোর দেন তারা। স্থানীয় কৃষকদের অভিজ্ঞতা, কারিগরি বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে হাওর ব্যবস্থাপনার একটি টেকসই পরিকল্পনার আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে বলা হয়, ইতিমধ্যেই সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরের অধিকাংশ বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হাওরের মধ্যে পাখিমারা হাওর, দেখার হাওর, করচার হাওর, কানলার হাওর, খাই হাওর, শাল্লার ছায়ার হাওর, জামালগঞ্জের হালির হাওর, পাগনার হাওর, তাহিরপুরের শনির হাওর, মাটিয়ান হাওর, দিরাই উপজেলার কালিকোটা, টাংনি, হুরামন্দিরা, বরাম ও চাপতির হাওর, মধ্যনগরের ঠগার হাওর, শান্তিগঞ্জ উপজেলার দেখার হাওর, সাংহাই হাওর, খাই হাওর, জামখলা হাওর ও কাঁচিভাঙা হাওরের নিচু জমিগুলোও পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে।

মানববন্ধনে বক্তারা সরকারের প্রতি দাবি জানান— হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ, নদী খনন, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্লুইসগেট স্থাপন, খাল পুনর্খনন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য জরুরি ক্ষতিপূরণ ও প্রণোদনা, এবং হাওর ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ।

বাপা সিলেটের সভাপতি জামিল আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘বন্যা হোক বা জলাবদ্ধতা, কৃষকের ক্ষতির ধরণ একই। পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে সোনালি ফসল। কৃষকরা ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ফসল তলিয়ে যাওয়ায় তারা দিশেহারা। শুধু ফসলই নয়, গবাদিপশুর খাদ্য সংকটও দেখা দিয়েছে।’

সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদুল্লাহ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিবছর অকাল বন্যা ও জলাবদ্ধতা থেকে হাওর রক্ষায় অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হলেও এর বাইরে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদী কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ হয়নি। হাওরের বাঁধ অনেক ক্ষেত্রে মরণ ফাঁদ হয়ে উঠেছে। বিকল্প ব্যবস্থা ভাবতে হবে।’

মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক পিযুষ পুরকায়স্থ টিটু। 

এতে বক্তব্য রাখেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ইকবাল সিদ্দিকী, সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা, ব্লাস্ট সিলেটের সাবেক কো-অর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট ইরফানুজ্জামান, মধ্যনগর উপজেলা উন্নয়ন পরিষদের সাবেক সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম, ধর্মপাশার রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আমানুর রাজা চৌধুরী, সমাজসেবী মো. দিলশাদ মিয়া, বংশীকুন্ডা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সাবেক সভাপতি জেনারুল ইসলাম প্রমুখ।