হৃদরোগ মাত্র ৩৪-এই থামিয়ে দিলো ব্রাজিলের অস্কারকে 

ব্রাজিলিয়ান সাম্বার ছন্দ আর চেলসির মাঝমাঠের সেই চিরচেনা জাদুকর অস্কার আর ফিরবেন না সবুজ ঘাসে। হৃদযন্ত্রের সমস্যার কারণে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবল থেকে আকস্মিক অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন এই তারকা মিডফিল্ডার। শৈশবের ক্লাব সাও পাওলোর হয়ে ক্যারিয়ার শেষ করার যে স্বপ্ন নিয়ে তিনি ব্রাজিলে ফিরেছিলেন, নিয়তির টানে সেখানেই ইতি টানতে হলো তাকে।

ঘটনার সূত্রপাত গত নভেম্বরে। সাও পাওলোর ট্রেনিং সেন্টারে ফিজিক্যাল টেস্ট দেওয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, অস্কার 'ভ্যাসোভ্যাগাল সিনকোপ' নামক সমস্যায় ভুগছেন। এটি এমন এক অবস্থা যেখানে রক্তচাপ এবং হৃদস্পন্দন হঠাৎ কমে যাওয়ায় মানুষ জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিন বছরের চুক্তিতে সাও পাওলোতে ফেরা অস্কারের চুক্তির আরও দুই বছর বাকি ছিল। কিন্তু ঝুঁকি না নিয়ে তিনি চুক্তি বাতিল করে বুট জোড়া তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় অস্কার বলেন, 'আমি সাও পাওলোর জন্য আরও অনেক কিছু করতে চেয়েছিলাম। আমার খেলার সামর্থ্য এবং বয়স—দুটোই ছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এই পরিস্থিতি তৈরি হলো। এখন থেকে আমি শুধুই একজন সমর্থক হিসেবে গ্যালারিতে থাকব।'

অস্কারের ক্যারিয়ার ছিল সাফল্যে মোড়ানো। ২০১২ সালে চেলসিতে যোগ দেওয়ার পর প্রথম মৌসুমেই জিতেছিলেন ইউরোপা লিগ। এরপর ২০১৪-১৫ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ ও লিগ কাপের ‘ডাবল’ জয়ের স্বাদ পান তিনি। ব্লুজদের হয়ে ২০৩ ম্যাচে ৩৮টি গোল করা এই তারকা ২০১৭ সালে সবাইকে অবাক করে দিয়ে পাড়ি জমান চীনের ক্লাব সাংহাই পোর্টে। সেখানেও তিনি তিনবার চাইনিজ সুপার লিগ শিরোপা জিতে নিজের জাত চিনিয়েছেন।

ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে ৪৮টি ম্যাচ খেলা অস্কারের কথা মনে পড়লে ভক্তদের চোখে ভেসে ওঠে ২০১৪ বিশ্বকাপের সেই সেমিফাইনাল। জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের সেই ঐতিহাসিক পরাজয়ের রাতে ব্রাজিলের হয়ে একমাত্র সান্ত্বনার গোলটি এসেছিল তারই পা থেকে। ২০১৩ সালে সেলেসাওদের হয়ে ফিফা কনফেডারেশন কাপ জয়ও তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় অর্জন।

এক নজরে অস্কারের অর্জন

প্রিমিয়ার লিগ: ২ বার (চেলসি)
ইউরোপা লিগ: ১ বার (চেলসি)
চাইনিজ সুপার লিগ: ৩ বার (সাংহাই পোর্ট)
কনফেডারেশন কাপ: ১ বার (ব্রাজিল)