কুষ্টিয়ায় হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুসহ ৪ দিনে মৃত্যু ৭

হামের উপসর্গ নিয়ে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি হওয়া আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে গত ৪ দিনে মৃত্যু হলো ৭ শিশুর। এরমধ্যে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে ৩টি, ২৫০শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ১টি এবং সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র হতে রাজশাহী মেডিকেলে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে ২টি শিশুর। এসব শিশু গুলি গত শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত হামের উপসর্গে ভর্তি হয়েছিলো হাসপাতাল গুলিতে। 

সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে সর্বশেষ কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হওয়া ৬ মাস বয়সী রায়হান সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর গ্রামেরন সোহাগ গাজীর ছেলে। 

সোহাগের অভিযোগ, গত দুইদিন ধরে বাচ্চার ঠাণ্ডা জ্বর সর্দি হওয়ায় গ্রামের চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা চলছিলো। গতকাল রবিবার হঠাৎ বাচ্চার গায়ের বিভিন্ন স্থানে লালচে হয়ে উঠে। বাচ্চার শ্বাসকষ্টও বেড়ে যায়। ওই অবস্থায় দ্রুত কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করায়। ওই সময় বাচ্চাটার খুব কষ্ট হচ্ছিল। শিশু ওয়ার্ডের নার্সরা দেখছিলো। কিন্তু কোন বড় ডাক্তারকে ডেকেও পায়নি। বাচ্চার খুব টান ওঠে, কি যে কষ্ট হচ্ছিলো তা বোঝাতে পারবো না’। আমি ভয়ে আতঙ্কে বড় ডাক্তার আসার অপেক্ষা করছিলাম, পরে বিকেলে বাচ্চাটা ছটফট করতে করতেই মারা গেলো ডাক্তার আর আসেনি’। হাসপাতালে জীবিত বাচ্চা নিয়ে এসে মৃত বাচ্চার লাশ নিয়ে বাড়ি যায়’।     

মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডের দায়িত্বরত নার্স শরিফা বেগম জানায়, ‘শিশুটি হাসপাতালে আনার সময়ই খুব ক্রিটিক্যাল অবস্থায় ছিলো। উন্নত চিকিৎসা ও আইসিইউ বা ভেন্টিলেশন সাপোর্টের জন্য তাকে ঢাকায় নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু পরিবার কোথাও ম্যানেজ করতে পারিনি। পরে শিশুটি মারা যায়’।

কুমারখালী উপজেলার সোন্দহ গ্রামের স্কুল শিক্ষিকা নাসিমা খাতুন তার ৭ মাস বয়সী শিশু কন্যা আরিয়াকে গত বৃহস্পতিবার ঠাণ্ডা জনিত জটিলতায় ভর্তি করেছিলেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। শনিবার পর্যন্ত ওই হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে অবস্থানকালীন ৩দিনের শ্বাসরুদ্ধকর ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘দেখুন আমরা তো চিকিৎসক নই, হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক যেটা বলেন সেটাই আমাদের কাছে শিরোধার্য মনে করি। কিন্তু চিকিৎসায় ভুলত্রুটি বা অবহেলা বিষয়টি আমরা বুঝতে পারলেও কিছুই বলতে পারিনা। আর বল্লেই বা কি ? আমাদের কথা উনারা পাত্তাই দেন না। আমরাও অন্ধের বিশ্বাস নিয়ে অপেক্ষা করি একটু ভালো চিকিৎসা পাবো বলে। এখানে শিশু ওয়ার্ডে না আছে কোন শৃংখলা, না আছে কোন কাঙ্খিত সেবা পাওয়ার উপায়। হাসপাতালের তালিকায় উল্লেখিত শিশু ডাক্তারদের চিকিৎসা সেবা হাসপাতালে না জুটলেও উনাদের পাওয়া যাবে প্রাইভেট ক্লিনিকে। আমি আমার বাচ্চাকে শেষ পর্যন্ত ওখান থেকে বের করে নিয়ে এসে ওই শিশু বিভাগেরই এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে ভরদুপুরে দেখায় শহরের প্রাইভেট ক্লিনিক পপুলারে’। আমাদের স্বপ্নের মেডিকেলে উন্নত স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তির বিষয়ে আমি হতাশ’। 

কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক এ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া যেসকল শিশুর ভেন্টিলেশন সার্পোটের প্রয়োজন তাদের ঢাকায় নেয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে’।

কুষ্টিয়া জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল জানান, ‘সোমবার দুপুর পর্যন্ত ২৫০ শয্যার সদর ও কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ৬টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ২৪ ঘণ্টায় ঠাণ্ডা জ্বর সর্দি কাশি জনিত জটিলতা নিয়ে মোট ভর্তি হয়েছে ৩শ ৪৭ শিশু। অদ্যাবধি চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৭২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় এসব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে নতুন করে উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ২৯ জন। মৃত্যু সংখ্যা- ০৭ জন।