বগুড়া-৬ উপনির্বাচন

ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রার্থীরা

গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ সদর আসন থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচিত হয়েছিলেন। সাংবিধানিক কারণে পরে তিনি এই আসনটি ছেড়ে দেন। আগামী ৯ এপ্রিল বগুড়া-৬ সদর আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা (ধানের শীষ) ও জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেলের (দাঁড়িপাল্লা) প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করছেন সাধারণ মানুষ। এই আসনে আরও একজন প্রার্থী রয়েছেন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির প্রার্থী আল আমিন তালুকদার (ফুলকপি), তবে তাকে নির্বাচনী মাঠে সরব দেখা যায়নি।

এদিকে বগুড়া শহরের সাতমাথা মোড়, জলেশ্বরীতলা, সূত্রাপুর, চেলোপাড়া থেকে শুরু করে তিনমাথা ও সদর উপজেলার গ্রামগুলোতে এখন নির্বাচনী প্রচারণার আমেজ। দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার, ব্যানার, বিলবোর্ড আর দিনভর মাইকিংয়ে মুখর রাজপথ। 
বিকেলে পথসভা আর রাত পর্যন্ত উঠান বৈঠক মিলিয়ে উপনির্বাচনের দৃশ্যমান আমেজ দেখা গেছে। তবে ভোটারদের কেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

জেলা নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া-৬ (সদর) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৫৪ হাজার। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল প্রায় ৬৯ শতাংশ। তবে আসন্ন উপনির্বাচনে রাজনৈতিক কর্মী ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে ধারণা করা হচ্ছে, এবার ভোটার ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ ভোটার উপস্থিত হতে পারেন।

জানা যায়, বগুড়া-৬ সদর আসনে ১৫০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৩টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বগুড়া সদরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপনির্বাচনে অনেকের আগ্রহ কম। অনেকে বলছেন- তারেক রহমানকে ভালবেসে ভোট দিয়েছেন, তাই এবার খুব আগ্রহ নেই। সেই সঙ্গে সদর উপজেলার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার কর্মসংস্থানের কারণে ঢাকা বা অন্য জেলায় অবস্থান করেন।

শহরের বড়গোলা এলাকার ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ছেলে মেয়ে ঢাকায় লেখাপড়া করে। এবার ওদের পরীক্ষা চলছে। যার কারণে মিসেসও ঢাকায়। তাই তারা উপনির্বাচনে ভোট দিতে আসবে না।

শহরের বাদুরতলা এলাকার মনজুর লিটন ঢাকায় চাকরি করেন। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনে বাড়ি আসতে পেরেছি। উপনির্বাচনে আর যেতে পারব বলে মনে হয় না।

শহরের কাজী নজরুল ইসলাম সড়কের জুতা ব্যবসায়ী সবুর ইসলাম বলেন, গতবার পরিবার নিয়ে ভোট দিয়েছি। এবার শুনছি পরিবেশ ভালো না। পরিবেশ ভালো না হলে ভেট দিতে যাব না। আগে পরিবার তারপর ভোট।

উপনির্বাচনে মূলত বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপি তুলনামূলক সংগঠিত ও সংযত প্রচারণা চালাচ্ছেন, পাড়া মহল্লায় সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত প্রচারণা চলছে।

অপরদিকে জামায়াত তৃণমূল পর্যায়ে ব্যক্তিগত যোগাযোগের ওপর জোর দিচ্ছে। তাদের ধারণা বিগত ভোটের ন্যায় আবারও জনগণ আরও বেশি ভোট তাদের দিবেন।

বগুড়া শহর জামায়াতের আমির ও জামায়াতের প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল বলেন, আমরা শুরু থেকেই ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছি। মানুষ ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছে। ভোটার উপস্থিতি নির্ভর করছে মূলত পরিবেশের ওপর।

তিনি আরও বলেন, মাগুড়ার মতো নতুন করে বগুড়ায় ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করার চেষ্টা করলে জনগণ তাদের প্রতিহত করবে।

জেলা বিএনপির সভাপতি ও প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা বলেন, আমরা মাঠে ভালো সাড়া পাচ্ছি। ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু হলে মানুষ ভয়ভীতি উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে আসবে। আমাদের লক্ষ্য শুধু নির্বাচন করা নয়, ভোটারদের আস্থা ফিরিয়ে আনা।

তিনি আরও বলেন, বগুড়ার মানুষকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা চলছে। আসলে তাতে বিরোধী পক্ষের কোনও লাভ হবে না। বগুড়া মানুষ ধানের শীষেই ভোট দেবেন।

নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, ভোট সুষ্ঠু রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বিশেষ নজরদারি থাকবে।

সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফজলুল করিম জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত পরিবেশ ভালো আছে। নির্বাচনের দিন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকবে। আমাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে।