বগুড়ায় রবিন হোসেন (২৮) নামে এক যুবককে পূর্বশত্রুতার জেরে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে মো. লিটন (৩১) নামে এক যুবককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত রবিবার রাতে এ দুটি হত্যাকান্ড ঘটে।
বগুড়ায় নিহত রবিন পেশায় ফল ব্যবসায়ী ও শহরের উত্তর চেলোপাড়া এলাকার মিরাজ হোসেনের ছেলে। এর আগেও তাকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। নিহত রবিনের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় ডাকাতির প্রস্তুতি, মারামারি ও নারী নির্যাতন আইনে মোট চারটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার রাতে ফুলবাড়ী বানিয়াপাড়া এলাকার একটি কবরস্থানে আতাফল পাড়া নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে রবিনের কথা-কাটাকাটি হয়। এর কিছুক্ষণ পর রাত ১০টার দিকে চার থেকে পাঁচ জন যুবক তাকে কবরস্থানের পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে যায়। এরপর সেখানে তাকে হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ফেলে রেখে যায়। গুরুতর অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ফুলবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (পরিদর্শক) আলমাস আলী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনটি ভাঙা হকিস্টিকের অংশ ও একটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করেছে।
বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর জানান, এ ঘটনায় জড়িত কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে নিহত লিটন রংপুরের মৃত জাহিদুল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় গতকাল সোমবার দুপুরে নিহতের স্ত্রী মাফিয়া আক্তার মাহি বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও সাত থেকে আট জনকে আসামি করে সোনারগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
জানা গেছে, লিটন উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হামছাদি মারাবাড়ী এলাকায় শ^শুরবাড়িতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। স্থানীয় ডন রাসেল, সাকিব, ইমরান, সাত ভাই জসিম, ওয়াসিম, ওসমান ও কাঠগুন্ডা জসিমের সঙ্গে লিটনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।
এ বিরোধের জেরে রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পিরোজপুর ইউনিয়নের রতনপুর এলাকায় ডন রাসেল, সাকিব, ইমরান, সাত ভাই জসিম, ওয়াসিম, ওসমান ও কাঠগুন্ডা জসিমসহ অজ্ঞাত আরও সাত থেকে আট জনের সঙ্গে লিটনের বাগ্বিতন্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তারা লাঠিসোটা, রড, দা, চাপাতি ও রামদা দিয়ে লিটনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।
এ সময় লিটনের চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় স্বজনরা গুরুতর অবস্থায় লিটনকে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত লিটনের স্ত্রী মাফিয়া আক্তার মাহি জানান, প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে তার স্বামীর হত্যাকারীদের চিহ্নিত করতে পেরেছেন। পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানান তিনি।
সোনারগাঁও থানার ওসি মো. মহিববুল্লাহ জানান, এই হত্যার ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।