জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে সরকার এই মুহূর্তে অনলাইনে পাঠদানের কথা চিন্তা করছে না বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এ ছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পে-স্কেল কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।
গতকাল সোমবার দুপুরে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নসহ বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নের ব্যাপারে রাজধানীর বিভিন্ন বিদ্যালয় সরেজমিন পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘আমাদের সরকার খুব গুরুত্বের সঙ্গে শিক্ষাঙ্গন দেখছে। এনার্জি ক্রাইসিসের জন্য কী হতে পারে, কী হওয়া উচিত, এটা শুধু আমার মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আসবে না, এটা আসবে কেবিনেট থেকে; প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে। সে জায়গায় সর্বশেষ যে আলোচনা, আমরা অনলাইনের দিকে যাচ্ছি না।’
‘এ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী যেটা বলেছেন, মানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কী কী চিন্তা করছে, সেটা তিনি স্পষ্ট করেছেন।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের এখন জানাতে পারি, অনলাইন সেভাবে চিন্তা করছি না; কেবিনেটে অনলাইন বড়ভাবে চিন্তা হচ্ছে না।’
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সাশ্রয় করতে দেশের মহানগরী এলাকার প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীরে পাঠদানের পাশাপাশি, অনলাইনেও ক্লাস নেওয়ার বিষয়ে ভাবছিল শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সচিবালয়ে রবিবার সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন-অফলাইন ক্লাস চালু করা হবে কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত চলতি সপ্তাহের মধ্যেই নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন যে, অংশীদারদের সঙ্গে কথা বলে আলোচনা সাপেক্ষে অনলাইন-অফলাইন কীভাবে এটাকে সিস্টেমেটিক ডিস্ট্রিবিউশন করা যায়, সে ব্যাপারে। আমরা এখনো অংশীদারদের সঙ্গে বসতে পারিনিই; কাল-পরশু বসে এ বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেব এবং সেটা ক্যাবিনেটকে জানাব। তারপর ক্যাবিনেট সিদ্ধান্ত নেবে।’
শিশুদের হামের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অঙ্গনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে হাম-বিষয়ক সচেতনতা শুরু হয়েছে। টিকার ব্যাপারে ফাইনাল আলোচনা চলছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী জুন-জুলাইয়ে শিক্ষাক্ষেত্র নিয়ে আসছে নতুন কিছু পদক্ষেপ। তার পরিপ্রেক্ষিতেই প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করা হচ্ছে।
এ সময় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটিসহ, শিক্ষক, অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মিড ডে মিলসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যগত উন্নয়নের ব্যাপারেও খোঁজখবর নেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দেরি করে অফিসে আসা তাদের গুণগত মানের সঠিক বিচার করে না। মন্ত্রণালয় জনগণের জন্য কাজ করবে। জবাবদিহিতার জায়গা তৈরি করবে।