দড়ি ও বাঁশ বেয়ে মসজিদে যাওয়া নাটোরের বড়াইগ্রামের ১২০ বছর বয়সী অন্ধ মুয়াজ্জিন আব্দুর রহমান মোল্লা আর নেই। গত রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান। তিনি দুই স্ত্রী, ৯ মেয়ে ও ১০ ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় বড়দেহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর উপজেলার বিএনপি-জামায়াতসহ অন্যান্য দলের নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন।
জানা যায়, প্রায় ২২ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় তিনি দৃষ্টিশক্তি হারানোর কয়েক বছর পর নিজ গ্রামে ৫ শতাংশ জমির ওপর একটি পাকা মসজিদ তৈরি করেন। এরপর নিজেই মসজিদের মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু চোখে দেখতে না পাওয়ায় মসজিদে আসা-যাওয়ার প্রতিবন্ধকতা জয় করতে তার সন্তানরা বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত টেনে দেন দড়ি ও বাঁশ। এই দড়ি ও বাঁশের সাহায্যেই তিনি নিয়মিত মসজিদে যেতেন।
তার মৃত্যুতে নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আব্দুর রহমান ছিলেন উপজেলার সবচেয়ে প্রবীণ মানুষ। তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।’