আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিলসহ ১৪টি বিল পাস

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপ দেওয়ার অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিলসহ আরও ১৪টি বিল পাস হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা উত্থাপনের পর বিলগুলো সরাসরি কণ্ঠভোটে পাস করা হয়। বিলগুলোতে দফাওয়ারি কোনো সংশোধনী প্রস্তাব ছিল না। তাই বিলের ওপর সংসদে কোনো আলোচনা হয়নি। বিল পাসের সময় আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান ও বিরোধীদলীয় নেতার মধ্যে মৃদু বিতর্ক হয়। পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে রয়েছে হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ বিল, কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (সংশোধন) বিল, সিভিল কোর্টস (সংশোধন) বিল, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) (সংশোধন) বিল,  রেজিস্ট্রেশন (সংশোধন) বিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল, শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট (সংশোধন) বিল, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) (রহিতকরণ) বিল, নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) (২০২৪-২৫ অর্থবছর) বিল, নির্দিষ্টকরণ (২০২৫-২৬ অর্থবছর) বিল, বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্য বিমোচন ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (সংশোধন) বিল, শেখ রাসেল পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, রংপুর (সংশোধন) বিল এবং বাণিজ্যিক আদালত বিল।

আইনমন্ত্রী-বিরোধীদলীয় নেতার বিতর্ক : এদিকে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত বিলটি পাসের প্রস্তাব করতে গিয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এটি এমন একটি বিল, যার মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় গুমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যারা বলছেন, সরকার গুম প্রতিরোধের আইন করতে চাইছে না, তাদের তিনি এ আইন ভালো করে দেখার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গুমের বিচারে বদ্ধপরিকর, সেটার বহিঃপ্রকাশ এই আইনে এসেছে।

বিলটি পাস হওয়ার পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, আইনমন্ত্রী বিল পাসের প্রস্তাব করতে গিয়ে যা বলেছেন, তা অনাহূত। এটা না বললেই ভালো হতো। নির্দিষ্ট সময় যখন আসবে, তখন এ বিষয়ে তারা কথা বলবেন।

জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, সংসদের বাইরে অনেকে গুমের বিচার করার ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেছেন। সে কারণে এ বিল উপস্থাপনের আগে তিনি পরিষ্কার করেছেন যে গুমের বিচারে সরকার কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

পরে আইনমন্ত্রীর উদ্দেশে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাইরে কতজন কত কথা বলে! আপনি সংসদের আলোচনার মধ্যে, সংসদ সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখেন। স্পিকার বলেন, আইনবিধি অনুযায়ী যেটা গৃহীত হবে, সেটা নিয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

এরপর অন্য বিল পাসের কার্যক্রম শুরু করেন স্পিকার। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তার তিনটি বিল সংসদে তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সেগুলো হলো ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) বিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল ও শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন)। এর মধ্যে শেষের দুটি বিল পাস হয়। দ্বিতীয় বিলটি উত্থাপনের সময় সালাহউদ্দিন কিছুটা হেসে বলেন, ‘খুব দুঃখের ব্যাপার! এতক্ষণ তো যা বললাম, এখন আবার শেখ হাসিনা বলতে হচ্ছে।’ এ সময় সংসদ সদস্যদের অনেককে হাসতেও দেখা যায়। পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট (সংশোধন) বিল’ পাসের প্রস্তাব করেন। বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। এরপর রাতে আরও ৬টি বিল পাস করা হয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) (রহিতকরণ) বিল উত্থাপন করা হয়েছে। এর আগে দুই দিনে আরও ৯টি বিল পাস হয়েছে।