যুবদল নেতাকে হত্যাচেষ্টা

আলোচনায় নতুন অস্ত্র ‘পেনগান’

রাজধানীতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘পেনগান’। পুরান ঢাকার নয়াবাজারে যুবদল নেতা রাসেলকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় এই নতুন ধরনের ক্ষুদ্রাস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ভারতে এমপি আনারুল ইসলাম আনার হত্যাকান্ডের পর সন্ত্রাসীদের পেনগান ব্যবহারের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবি সূত্রে জানা যায়, ‘পেনগান’ সাধারণ কলমের মতো হলেও আসলে একটি মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র, যা সহজে বহন ও গোপন রাখা যায়। এর ভেতরে গুলি করার মতো স্পিøন্টার রয়েছে। এমনকি ব্যবহারের পর অস্ত্রটি একটি সিগারেটের প্যাকেটে লুকিয়ে রাখা হয়।

যুবদল নেতা রাসেল হত্যায় জড়িত দুজনকে সম্প্রতি গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। তারা হলো সায়মন ও সোহেল ওরফে কাল্লু। তাদের কাছ থেকেই অস্ত্রটি (পেনগান) উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ৮০ হাজার টাকায় এই অস্ত্র সংগ্রহ করার তথ্য দিয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি ভারত বা পাকিস্তান থেকে দেশে এসেছে। অতীতে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে চরমপন্থিদের কাছে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের তথ্য রয়েছে। এমনকি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সংসদ সদস্য আনার হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামির কাছেও এমন অস্ত্রের তথ্য পাওয়া গেছে।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, ৩ এপ্রিল বিকেলে ডেকে নিয়ে যুবদল নেতা রাসেলকে সায়মনের বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। গুলিতে মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়ায় ঘটনায় জড়িত সায়মন ও রিপন দাস তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার আশঙ্কায় রাসেলকে সায়েন্সল্যাব এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেন তারা। খবর পেয়ে স্বজনরা চলে আসায় তারা সরে পড়েন।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম জানান, এ ধরনের অস্ত্র অতীতে রাজধানীতে ব্যবহারের কোনো তথ্য নেই। পেনগানটি কীভাবে দেশে এলো, কারা এর সঙ্গে জড়িত এসব বিষয় গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

আহত রাসেল কোতোয়ালি থানা যুবদলের সদস্য। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে হত্যাচেষ্টা মামলা হয়েছে।