নৈতিকতার ভিত্তিতে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ

স্বাস্থ্য খাতে গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির অগ্রগতি হলেও নৈতিকতা এবং সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এর সুফল টেকসই হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, মানুষকে স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করা, পরিহারযোগ্য ঝুঁকি সম্পর্কে জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া এবং নৈতিকতার ভিত্তিতে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট সবাই যদি উচ্চ নৈতিকতা নিয়ে একসঙ্গে কাজ করি, তাহলে দেশের স্বাস্থ্য খাতকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করা সম্ভব হবে। গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় শুধু চিকিৎসা নয়, বরং স্বাস্থ্যবিধি, নিরাপদ খাদ্য এবং পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে সার্বিক সচেতনতা জরুরি। এ জন্য জনগণের পাশাপাশি নীতিনির্ধারক, প্রশাসন, চিকিৎসক ও ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান, সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, অনেক হাসপাতালে এখনো স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। কোথাও ওয়ার্ডে অবাধে খাবার বিক্রি, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও রোগীদের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, হাসপাতালের ভেতরে এ ধরনের অনিয়ম রোগীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। এটি কাম্য নয়।

ওষুধ উৎপাদন খাতে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে ওষুধের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যে উপাদান থাকার কথা, অনেক সময় তা কম পাওয়া যাচ্ছে। আবার ভালো মানের ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বাধার মুখে পড়ছে, এ ধরনের পরিস্থিতি স্বাস্থ্য খাতের জন্য ক্ষতিকর।

টিকাদান কর্মসূচির উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সঠিক সংরক্ষণব্যবস্থা ছাড়া ভ্যাকসিন কার্যকর থাকে না। পরিকল্পনা ও বাস্তবতার মধ্যে সমন্বয় না থাকলে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তিনি বলেন, শুধু ওষুধ বা প্রযুক্তি দিয়ে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন সম্ভব নয়। পরিবেশদূষণ, অনিয়ন্ত্রিত শিল্পকারখানা এবং মশা নিধনে অনিয়মসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে। একদিকে চিকিৎসা দিচ্ছি, অন্যদিকে অসততা ও অব্যবস্থাপনার কারণে নতুন রোগ তৈরি হচ্ছেÑএভাবে চলতে পারে না।