জাপানের রাষ্ট্রদূতকে রাশিয়ার তলব

ইউক্রেনের ড্রোন প্রস্তুতকারকের সঙ্গে বিনিয়োগচুক্তি স্বাক্ষর করেছে একটি জাপানি কোম্পানি। এই চুক্তির কারণে জাপানের রাষ্ট্রদূত আকিরা মোতোকে তলব করেছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মস্কোর দৃষ্টিকোণ থেকে এই চুক্তি গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানানো হয়েছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এক ব্রিফিংয়ে বলেন, টোকিওভিত্তিক টেররা ড্রোন করপোরেশন এবং ইউক্রেনের একটি আক্রমণাত্মক ড্রোন প্রস্তুতকারকের মধ্যে বিনিয়োগ চুক্তিসংক্রান্ত রিপোর্টের কারণে রাশিয়ার পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। জাখারোভা আরও বলেন, এই ধরনের বিনিয়োগচুক্তি রাশিয়ার নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। রাশিয়া স্পষ্টভাবে এই ধরনের কার্যক্রমকে নিন্দনীয় মনে করছে।

প্রসঙ্গত, ইউক্রেনের ড্রোন শিল্প সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিসংস্থার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। রাশিয়ার নজরদারি অনুসারে যেকোনো বিদেশি বিনিয়োগ যা সামরিক বা আক্রমণাত্মক ড্রোন উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত, তা সরাসরি তাদের নিরাপত্তা উদ্বেগ সৃষ্টি করে। এই ঘটনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিশেষ করে রাশিয়া-জাপান সম্পর্ক কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে। রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ শুরু করে ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি। সেই দিন থেকে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলকে লক্ষ্য করে স্থল, নৌ ও বিমান হামলা শুরু করে, যা পরে দেশব্যাপী যুদ্ধের দিকে গিয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার রাশিয়ার ভøাদিমির অঞ্চল এবং ইউক্রেনের রুশ-নিয়ন্ত্রিত দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর একাধিক ড্রোন হামলায় ১২ বছরের এক শিশুসহ ৫ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আঞ্চলিক গভর্নর আলেকজান্ডার আভেদিভ ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, রাশিয়ার ভøাদিমির অঞ্চলে রাতের আঁধারে চালানো ড্রোন হামলায় নিজ অ্যাপার্টমেন্টে ওই শিশু ও তার বাবা-মা নিহত হয়। অন্যদিকে, জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের গভর্নর ইয়েভজেনি বালিটস্কি জানান, ভেলিকায়া জামেনকা গ্রামের একটি স্কুলে ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হেনেছে। এ ছাড়া রুশ-নিয়ন্ত্রিত খেরসন অঞ্চলে চালানো আরেক ড্রোন হামলায় এক নারী নিহত হয়েছেন বলে এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন সেখানকার মস্কো-সমর্থিত গভর্নর ভøাদিমির সালদো। বার্তা সংস্থা রয়টার্স স্বাধীনভাবে রুশ কর্মকর্তাদের এসব দাবির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ পঞ্চম বছরে গড়িয়েছে এবং তীব্রতা বেড়েই চলেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটিই ইউরোপের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ও রক্তক্ষয়ী সংঘাত। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধের অবসানে শান্তি আলোচনা হলেও, কোনো পক্ষই এখনো ঐকমত্যে পৌঁছতে পারেনি এবং কার্যত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। যদিও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র জড়িয়ে পড়ায় সেই শান্তি আলোচনার প্রবাহও বাধার মুখে পড়েছে।