রাশিয়া ও ইউক্রেন সাম্প্রতিক সময়গুলোতে এক অপরের অর্থনৈতিক অবকাঠামো অচল করে দেওয়ার লক্ষ্যে ড্রোন হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। চলতি গ্রীষ্মে রাশিয়ার অর্থনৈতিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে টানা ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেন। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে তেল শোধনাগার ও অনলাইনে পণ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠানগুলোর গুদাম। গত শনিবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন বলেছেন, রাশিয়ার অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোয় হামলা চালিয়ে ইউক্রেন নিজেদের সর্বনাশ ডেকে এনেছে। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইউক্রেনের সবচেয়ে সংবেদনশীল অর্থনৈতিক খাতে পাল্টা হামলা চালানো হবে।
রাশিয়ার কর্মকর্তারা জানান, মস্কোর অধিকৃত এলাকাগুলোতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছে। লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওজোন এর একটি গুদাম ও একটি শিল্প স্থাপনা রয়েছে। পুতিন বলেছেন, ইউক্রেনের হামলাগুলো রশিয়ার প্রতিশোধের ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ খুলে দিয়েছে। কিয়েভ জানিয়েছে, দূরের লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আঘাত হানার উদ্দেশ্য হলো রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টার অর্থায়ন বন্ধ করা। রাশিয়ার সামারা অঞ্চলের গভর্নর ভিয়াচিসøাভ ফিদারিশ্চিফ জানিয়েছেন, নভোকুইবিশেভস্ক শহরে কিয়েভের ড্রোন হামলায় এক বৃদ্ধা নিহত ও একটি শিল্প স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা শহরটির তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে আর তাতে স্থাপনাটিতে আগুন ধরে যায়। রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওজোন টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সামারা অঞ্চলের চাপায়েভস্ক শহরে তাদের সরবরাহ কেন্দ্রে হামলার পর থেকে সেখানে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। ওজোনে এটি ইউক্রেনের প্রথম হামলা। এর আগে কয়েক সপ্তাহ ওজোনের বৃহৎ প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়াইল্ডবেরিজে ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেন।
ইউক্রেনের অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলার কারণে রাশিয়ার কৃষিপণ্য রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে এর ফলে বিশ্ববাজারে খাদ্যসংকট তৈরি হবে না বলে দাবি করেছেন পুতিন। তার ভাষ্য, ইউক্রেনের শস্য রপ্তানির ঘাটতি রাশিয়া পূরণ করতে পারবে। পুতিন বলেন, ‘আমাদের পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা হচ্ছে। তবে আমরা এসব সমস্যা সমাধান করব। ফলে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের ঘাটতি হবে না’। এর আগে কৃষ্ণসাগর দিয়ে বিশ্ববাজারে শস্য রপ্তানি নিরাপদ রাখতে রাশিয়া ও ইউক্রেন একটি চুক্তি করেছিল। তুরস্কের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালে করা এ চুক্তির মাধ্যমে ইউক্রেনের শস্য রপ্তানির পথ নিরাপদ রাখার ব্যবস্থা হয়। তবে ২০২৩ সালে রাশিয়া চুক্তিটি থেকে সরে আসে।