যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে পাল্টা শুল্ক কানাডার

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৭ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে ফেরার পর থেকে দেশটির দীর্ঘদিনের মিত্র ও বাণিজ্যিক অংশীদার কানাডার সঙ্গে সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে। আর এর অন্যতম কারণ শুল্ক। দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য একটি বাণিজ্যচুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর গত শুক্রবার রাত থেকে কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প। জবাবে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের স্টিল, ইলেকট্রনিকস ও অন্যান্য পণ্যের ওপর সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক বসানোর ঘোষণা দিয়েছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও নাজুক হলো। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তি (ইউএসএমসিএ) নামের মহাদেশীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎও এখন বেশ জটিল হয়ে পড়ল। এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, কানাডার শ্রমিক, কৃষক, পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষা দিতে ওয়াশিংটনের নতুন শুল্কের বিপরীতে সমান হারে পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হবে। বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হলো কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আক্রান্ত হলে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়। আমরা আক্রান্ত হয়েছি।’

কানাডা তার মোট রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশের জন্যই যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল। তা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হাতে গোনা কয়েকজন বিশ্বনেতার মধ্যে কার্নি অন্যতম। কানাডার পার্লামেন্ট ভবন থেকে কার্নি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক বসবে। এর মধ্যে রয়েছে স্টিল, দুগ্ধজাত পণ্য, গৃহস্থালিসামগ্রী, কৃষিজ যন্ত্রপাতি, মণ্ড ও কাগজ এবং ইলেকট্রনিকস পণ্য। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র আগে কানাডার যেসব পণ্যকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল, সেগুলোর ওপরও শুল্ক বসানো হবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সরকার এই পাল্টা ব্যবস্থার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবে বলেও জানান তিনি। কার্নি বলেন, ‘তারা যা প্রস্তাব দিয়েছে, আমরা তা মেনে নিতে পারি না। আর তারা যা চেয়েছে, আমরা তা দেব না।’

ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতির প্রভাব পড়েছে বেশ কানাডার বেশ কিছু খাতের ওপর। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ওয়াইন, আসবাব, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, পোশাক, মাছ ধরার ছিপ ও হকির সরঞ্জাম। যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার প্রায় ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলারের সমপরিমাণ রপ্তানি পণ্য এই শুল্কের আওতায় পড়বে। ১৮ মাস ধরে ইউএসএমসিএ চুক্তির আওতায় কানাডার বেশির ভাগ পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়ে আসছিল। কিন্তু নতুন এই শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে কানাডার পণ্যগুলোকে কোনো ছাড় দেওয়া হয়নি। কার্নি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কের কারণে কানাডার যেসব শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তাদের জন্য আগামী সপ্তাহে সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে। এই সহায়তা কার্যক্রম কয়েক বছর ধরে চলতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। কানাডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্যান্ডিস লেং বলেন, ‘খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে এবং এর প্রভাব মোকাবিলায় আমরা সব অঞ্চলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রস্তুত করছি।’ ওন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড কার্নির সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে বলেন, ‘তিনি যে এই চুক্তিতে সই করেননি, তাতে আমি খুশি। এটি ওন্টারিও, গাড়ি ও ইস্পাত খাতের জন্য একটি খারাপ চুক্তি ছিল।’

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউজ, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সচিবের কার্যালয় বা বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিয়সন গ্রিয়ার শনিবার ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, কানাডার সঙ্গে নতুন করে কোনো আলোচনার পরিকল্পনা তাদের নেই। গ্রিয়ার বলেন ‘কানাডা যে পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে, আমরা তার উপযুক্ত জবাব দেওয়ার পথে এগোচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা সব সময়ই সেরা চুক্তিটি পেয়ে এসেছে। এবারও তারা আরও ভালো একটি চুক্তি পেতে পারত। কিন্তু তারা সেটা চায়নি।’ কানাডা যুক্তরাষ্ট্রে যে পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করে, তার প্রায় ৫ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই শুল্কের আওতায় পড়বে। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে নরম কাঠ ও ওয়াইনের মতো কিছু সংবেদনশীল শিল্প খাত মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। এতে কর্মসংস্থান কমার পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত