২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে সেই ম্যাচ। জয়ের জন্য ৩ বলে বাংলাদেশের চাই ২ রান। কিন্তু বাউন্ডারি মেরে দলকে জেতাতে গিয়ে ম্যাচটাই হারিয়ে দিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ! গতকাল আইপিএলে প্রায় একইরকম এক ঘটনা ঘটালেন দিল্লি ক্যাপিটালসের প্রোটিয়া হার্ডহিটার ডেভিড ‘কিলার’ মিলার।
গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে জয়ের জন্য শেষ ২ বলে দিল্লি ক্যাপিটালসের প্রয়োজন ছিল ২ রান। ক্রিজে অভিজ্ঞ ডেভিড মিলার, অন্যপ্রান্তে কুলদীপ যাদব। পঞ্চম বলে সিঙ্গেল নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা নিতে অস্বীকার করেন মিলার। তার লক্ষ্য ছিল শেষ বলে বাউন্ডারি মেরে দলকে জেতাবেন। কিন্তু প্রসিধ কৃষ্ণার করা শেষ বলটি তিনি ব্যাটেই লাগাতে পারেননি! ফলাফল ১ রানের নাটকীয় হার!
স্বাভাবিকভাবেই মিলারের এই কাণ্ডে সমালোচনার ঝড় বইছে। তবে প্রোটিয়া তারকার পাশে দাড়িয়েছেন ভারতের কিংবদন্তি ওপেনার সুনিল গাভাস্কার, ‘সবাই এখন ম্যাচের ফল দেখে বিচার করছে। মিলার কেন কুলদীপকে স্ট্রাইক দেননি, সেটা নিয়ে প্রশ্ন তোলা সহজ। কিন্তু যেভাবে মিলার আগের ওভারগুলোতে মারছিলেন, তাতে নিজের ওপর তাঁর ভরসা থাকাটাই স্বাভাবিক। তিনি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন যে শেষ বলে জয় নিশ্চিত করতে পারবেন। এটা কেবলই তাঁর দুর্ভাগ্য যে প্রসিধ কৃষ্ণা শেষ বলটি অসাধারণ করেছেন। তাই মিলারকে দোষ দেওয়া ঠিক হবে না।’
সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক কেভিন পিটারসেনও মনে করেন, মিলারের হিসেবে কোনো ভুল ছিল না। তার কথায়, ‘মিলারের মাথায় কাজ করছিল যে তিনি অন্তত একটি রান তো নেবেনই। আর ব্যাটে ঠিকঠাক লাগলে ম্যাচটা ওখানেই শেষ হয়ে যেত। তিনি হয়তো কুলদীপকে নিয়ে ঝুঁকি নিতে চাননি। ভেবেছিলেন শেষ বলে অন্তত ১ রান নিয়ে ম্যাচটি সুপার ওভারে নিয়ে যাবেন। দুর্ভাগ্যবশত সেটি হয়নি, কিন্তু এর মানে এই নয় যে মিলার দলের জন্য চেষ্টা করেননি।’
শেষ বল কিপারের হাতে রেখেই ১ রান নিয়ে টাই করার চেষ্টায় দৌড় শুরু করেছিলেন মিলার ও কুলদীপ। তবে জস বাটলারের দারুণ থ্রোতে কুলদীপ রান-আউট হয়ে যান। এই মৌসুমে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নেয় গুজরাট টাইটান্স। ম্যাচ হারার পর ড্রেসিংরুমে মিলারকে একা বিষণ্ণ হয়ে বসে থাকতে দেখা যায়, যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সতীর্থ ও বিশ্লেষকরা তাকে সান্ত্বনা দিলেও, ১ রানের এই আক্ষেপ দিল্লি ক্যাপিটালস দলে অনেকদিন থেকে যাবে।