দীর্ঘ দিন থেকে গ্যাস সংকটে ভুগছে দেশের তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য শিল্প কলকারখানা। এতে উৎপাদন সক্ষমতা আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে। তবে এ সংকট আরও তীব্র হয়েছে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার আয়োজিত ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট : বাংলাদেশে এর প্রভাব এবং মোকাবিলায় কর্মপন্থা নির্ধারণ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ তথ্য তুলে ধরেন সংগঠনটির সভাপতি তাসকীন আহমেদ। অনুষ্ঠানে তিনি সভাপতিত্ব করেন।
অনুষ্ঠানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান প্রধান অতিথি এবং এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. আব্দুর রহিম খান ও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সদস্য (বিদ্যুৎ) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শাহিদ সারওয়ার (অব.) বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগদান করেন।
তাসকীন আহমেদ বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৫০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, প্রতি ব্যাগ সিমেন্ট উৎপাদন ব্যয় ২৫ থেকে ৩০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে, প্রতি কনটেইনার অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ৪ হাজার ডলার পর্যন্ত বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। সর্বোপরি জীবনযাত্রায় ব্যয়ের চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। বিদ্যমান জ্বালানি সংকটে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি সরবরাহ, সংগ্রহ ও স্বল্পমেয়াদি কৌশল গ্রহণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে আনতে বঙ্গোপসাগরে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, শিল্প-কারখানায় পণ্য উৎপাদন, বিপণন, পরিবহনসহ জনজীবনের সব ক্ষেত্রে জ্বালানির বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ফলে বিশেষ করে জ্বালানি খাতে আমাদের সক্ষমতার ঘাটতির বিষয়টি সামনে এসেছে, যেখানে এ খাতে দীর্ঘদিনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের অভাবের বিষয়টি বেশ স্পষ্ট। দেশের সব স্তরের দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে অফশোর ও অনশোরে গ্যাস ক্ষেত্র অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়ানো, জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ, সৌর ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে বিদ্যমান শুল্কহার হ্রাস, এ খাতের উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা প্রদানসহ সর্বোপরি আমলাতান্ত্রিক জটিলতার দীর্ঘসূত্রিতা কমানোর পাশাপাশি রাজনৈতিক স্বদিচ্ছা একান্ত অপরিহার্য বলে অভিমত জানান ডিসিসিআই সভাপতি।
এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক আব্দুর রহিম খান বলেন, সাম্প্রাতিক সময়ের জ্বালানি সংকট প্রতিটি মানুষের জীবনজীবিকায় প্রভাব ফেলছে এবং এ সংকট মোকাবিলায় এ খাতের গ্রহণযোগ্য তথ্য নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে যথাযথ স্ট্রাটেজি প্রণয়ন ও বাস্তাবায়ন জরুরি। জ্বালানির সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সৌর বিদ্যুৎ ও নাবয়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিদ্যমান শুল্ক হার প্রত্যাহারের ওপর তিনি জোরারোপ করেন। সেই সঙ্গে নতুন নতুন গ্যাস কূপ অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়ানোসহ জ্বালানি আমদানি উৎসের বহুমুখীকরণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বিইআরসির সদস্য মোহাম্মদ শাহিদ সারওয়ার বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলার একটি কার্যকর পন্থা হতে পারে, তবে শিল্পসহ অন্যান্য খাতে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অফশো ও অনশোর প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম বাড়ানোর বিকল্প নেই।
নির্ধারিত আলোচনায় জ্বাালানি খাতের অংশীজন অংশগ্রহণ করেন এবং তাদের মতামত তুলে ধরেন।