পাহাড়ে বৈসাবির বর্ণিল শোভাযাত্রা

বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, চাংক্রান, চাংলান, পাতা, বিহু উপলক্ষে আনন্দ ও উন্মাদনায় রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। প্রতি বছর এই শোভাযাত্রার মাধ্যমে মূলত বৈসাবির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পাহাড়িরা এতে অংশ নিয়ে দীর্ঘ বছর ধরে চলে আসা এই শোভাযাত্রায় নিজেদের ঐতিহ্য তুলে ধরেন। শোভাযাত্রায় বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাক গায়ে দিয়ে তাদের সংস্কৃতি তুলে ধরেন। আনন্দন্ডআমেজে বৈসাবির উপলক্ষ সবার কাছে পৌঁছে দেয়। তবে এই আনন্দন্ডউচ্ছ্বাসকে পাশ কাটিয়ে এবার জাতিসত্তার অধিকার আদায়ের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে।

মূলত চৈত্রের শেষ দিন ও নববর্ষ বরণকে উপলক্ষ করে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রাঙ্গামাটি শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা জাতিগোষ্ঠী জড়ো হয় পৌর চত্বরে। দলীয় নৃত্যের মাধ্যমে শুরু হয় মূল আনুষ্ঠানিকতা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ‘জুম্ম জাতীয় অস্তিত্ব সংরক্ষণ এবং অপসংস্কৃতির প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসুন’এই সেøাগানে রাঙ্গামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণে বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, চাংক্রান, চাংলান, পাতা, বিহু উদযাপন কমিটির উদ্যোগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, ডিসপ্লে প্রদর্শন ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার। প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার। সভাশেষে রাঙ্গামাটি পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে রাঙামাটি শিল্পকলা একাডেমির সামনে গিয়ে শেষ হয়।

খাগড়াছড়িতে গতকাল শোভাযাত্রা শুরু হলে শহরজুড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। শোভাযাত্রায় নানা বয়সের নারী-পুরুষ অংশ নেন। তাদের রঙিন ও ঐতিহ্যবাহী পোশাকে ফুটে ওঠে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অনন্য বৈচিত্র্য। ঢোল-বাদ্য, আর ঐতিহ্যবাহী গরায়া নৃত্য আর উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে। শোভাযাত্রাটি খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ মাঠে গিয়ে শেষ হয়। এর আগে বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা।

 ৯-১২ এপ্রিল পর্যন্ত এই চার দিনব্যাপী আয়োজনে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ১২ এপ্রিল নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে শুরু হবে বর্ষবরণের মূল আনুষ্ঠানিকতা। ১৩ এপ্রিল পালিত হবে মূল বিজু। এদিন নানা ধরনের সবজি দিয়ে রান্না করা হবে টক-ঝাল-মিষ্টি স্বাদের ঐতিহ্যবাহী ‘পাঁজন’। আর ১৪ এপ্রিল পালিত হবে গজ্জ্যাপজ্জ্যা বা পহেলা বৈশাখ।