৩৫০ স্কুলের ক্রিকেট লড়াই

বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ; নবম শ্রেণিতে পড়–য়া বৈভব সূর্যবংশী কোনো জায়গাতেই বোলারদের ছাড় দিচ্ছেন না। জাসপ্রিত বুমরারও রেহাই নেই। দশম শ্রেণিতে পড়া বৈভব যদি আইপিএলে ছড়ি ঘোরাতে পারেন, তাহলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে থাকতে তাওহিদ হৃদয় কেন স্কুল দলে সুযোগ পাবেন না? বাংলাদেশের হয়ে যুব বিশ্বকাপ জেতা এবং ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলে নিয়মিত হয়ে ওঠা ব্যাটসম্যান তাওহীদ হৃদয় জানিয়েছেন, ষষ্ঠ শ্রেণিতে থাকতেই বগুড়ার পুলিশ লাইন স্কুল অ্যান্ড কলেজের হয়ে আন্তঃস্কুল ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল, চার বছর খেলেছে স্কুলের হয়ে। বৃহস্পতিবার প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেট প্রতিযোগিতা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে হৃদয় জানিয়েছে কীভাবে স্কুল ক্রিকেটই গড়ে দিয়েছে তার ক্রিকেটার হয়ে ওঠার ভিত।

আজ শুক্রবার মাঠে গড়াচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট প্রতিযোগিতা প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেট ২০২৫-২৬। ১১ বছর ধরে প্রাইম ব্যাংক পৃষ্ঠপোষকতা করছে জাতীয় স্কুল ক্রিকেটের, প্রতি বছরই এই প্রতিযোগিতা থেকে বেছে নেওয়া সেরা ক্রিকেটারদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা করে। তবে এবার থেকে সেরা খেলোয়াড়দের আর্থিক সুবিধার পাশাপাশি ক্রিকেট সরঞ্জাম দেওয়ার পাশাপাশি বছরজুড়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রাইম ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এএমডি) মো. নাজিম এ. চৌধুরী।

দেশের ৬৪ জেলায় ৩৫০ স্কুলের সাড়ে ৮ হাজারের বেশি ক্রিকেটারের অংশগ্রহণে আজ শুরু হচ্ছে প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেট। প্রথমে হবে জেলা পর্যায়ের ম্যাচ, এরপর বিভাগীয় ও সবশেষে জাতীয়। সবশেষে ৬৫১ ম্যাচের এই মহাযজ্ঞ থেকে বেছে নেওয়া হবে ২৫ জন ক্রিকেটারকে। তারা প্রত্যেকে পাবেন বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। সেই সঙ্গে ক্রিকেট সরঞ্জাম ও অনুশীলনের সুযোগ-সুবিধা।

এমনই এক মৌসুমে, সাড়ে ৮ হাজারের বেশি ক্রিকেটারের একজন হয়ে খেলা শুরু করেছিলেন তাওহীদ হৃদয়। সেই স্মৃতিই ভাগাভাগি করলেন অনুষ্ঠানে, ‘সত্যি কথা বলতে স্কুল ক্রিকেটের বিষয়ে যদি কিছু বলতে চাই একটু আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ি। কারণ আমার জীবনের শুরুটাই হয়েছে এই স্কুল ক্রিকেট দিয়ে। আমি বগুড়া পুলিশ লাইন্স থেকে পড়াশোনা করেছি। আমি যখন বয়সভিত্তিক ক্রিকেট খেলি তার আগেও আমি স্কুল ক্রিকেট দিয়েই শুরু করেছিলাম। স্কুল ক্রিকেটের অনেক স্মৃতি আছে, এখনো সেগুলো মনে পড়ে। বিশেষ করে যদি বলতে চাই যে, একই ব্যাট একই হেলমেট পরে যখন আমরা ব্যাটিংয়ে নামার জন্য সবাই অনেক তাড়াহুড়া করতাম। ইকুইপমেন্ট খুব বেশি ছিল না, যেটা বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে আসার পরে যে জিনিসগুলো আমরা সবসময় পাই। তবে স্কুল ক্রিকেট এমন একটা জায়গা, এমনও হয় যে অনেকের পারসোনাল জিনিস নিয়েও মাঠে নামতে হয়। তো এই জিনিসগুলোর ভেতরও একটা আনন্দ আছে অনেক কিছু উপভোগ থাকে। বাট আমি পারসোনালি যে ফিল করি, যে স্কুল ক্রিকেট এমন একটা জায়গা যেখান থেকে অনেক প্লেয়ার উঠে এসেছে, অনেক প্লেয়ার এই জায়গায় পার্টিসিপেট করেছে। ইভেন আমি চার বছর খেলেছি, আমার বগুড়া পুলিশ লাইন্স বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে একবার।’

টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জোর দিয়েছেন খেলার মাধ্যমে বন্ধুত্ব বাড়ানোর দিকে, ‘শিক্ষার্থীদের একটা কথা বলব যে, খেলাটা অবশ্যই আমরা তো উপভোগ করি এই জন্যই খেলি। তবে এর পাশাপাশি এগুলো কিন্তু একটা সুযোগ যে এখানে ভালো করলে খুব ভালো জায়গায় আমি যেতে পারব, আমি ক্রিকেট খেলতে চাই পেশাদার হিসেবে। উপভোগ করছি, অবশ্যই তবে একই সঙ্গে এটাকে একটা সুযোগ হিসেবে নেওয়া উচিত। আর এক স্কুল আর এক স্কুলের সঙ্গে যখন খেলে বোঝাপড়া তৈরি হয়, বন্ধুত্ব তৈরি হয়, নতুন নতুন বন্ধু তৈরি হয়, তার মাধ্যমে এটা একজনের সঙ্গে একজনের একটা সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়। এভাবেই কিন্তু একজন আরেকজনের সঙ্গে ভালো সম্পর্কের কারণে একটা ভালো পরিবেশ তৈরি হয়, যেটা আমাদের খুব গুরুত্বপূর্ণ।’ প্রাইম ব্যাংকের নাজিম চৌধুরী আশাবাদ জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে মেয়েদেরও স্কুল ক্রিকেট চালু হবে, ‘বিসিবির কাছে আমার একটি অনুরোধ থাকবে— আমরা যেমন ছেলেদের জন্য স্কুল ক্রিকেট করছি, মেয়েদের জন্যও যদি এমন কিছু করা যায়।’