হেরেও অস্ট্রেলিয়াকে রুখে দেওয়ার গর্ব

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪৫ এএম

ডারউইনে দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। বিশ্বক্রিকেটকে চমকে দেওয়া সেই জয়ের রেশ কাটার আগেই ম্যাকাই টেস্টে বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হলো নাজমুল হোসেন শান্তর দলকে। চরম ব্যাটিং ব্যর্থতায় মাত্র দুদিনে দ্বিতীয় টেস্ট হেরে গেল। তবে বিশাল এই হার সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতে ১-১ টেস্টে রুখে দেওয়াকে বড় অর্জন হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ দল। এবার তাদের নজর সামনে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে যেখানে ডারউইনের মতো জয় উদযাপনের নতুন ইতিহাস লিখতে চায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

ম্যাকাই টেস্টে প্রথম দিন থেকেই ব্যাকফুটে ছিল বাংলাদেশ। মিচেল স্টার্ক ও প্যাট কামিন্সদের পেস আক্রমণের মুখে প্রথম ইনিংসে অলআউট হয় মাত্র ৬৪ রানে। জবাবে শরিফুল ইসলামের আগুনে বোলিংয়ে (৭/৪৮) ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিল সফরকারীরা। অস্ট্রেলিয়াকে ২১০ রানে আটকে রাখলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ফের ব্যাটিং ধসে নামেন ব্যাটাররা।

স্টার্কের গতি (৪/৩৯) আর নাথান লায়নের স্পিনে ৯৫ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস। দ্বিতীয় ইনিংসে অধিনায়ক শান্তর ৩১ রান ছাড়া আর কেউই উইকেটে টিকতে পারেননি। লিটন দাস তৃতীয়বারের মতো এই সিরিজে শূন্যতেই আউট হয়েছেন। ২৯ রান করে অপরাজিত থেকে যান মুশফিকুর রহিম। ফলে টেস্ট ইতিহাসের অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দ্বিতীয় দ্রুততম এই ম্যাচে ইনিংস ও ৫১ রানের বড় জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা। ম্যাচে ৫১ রানে ১০ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাটারদের একা হাতেই গুঁড়িয়ে দেন মিচেল স্টার্ক।

ব্যাটারদের চরম ব্যর্থতা মেনে নিচ্ছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ম্যাচ শেষে শান্ত অকপটে বলেন, ‘কোনো অজুহাত নেই, আমরা দল হিসেবে একদমই বাজে খেলেছি। সেট হওয়ার পর আমার সেভাবে আউট হওয়া উচিত হয়নি, অন্তত দাঁড়িয়ে থাকা দরকার ছিল। অস্ট্রেলিয়া যেভাবে ম্যাকাইয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তাতেই বোঝা যায় আমরা ডারউইনে কত বড় একটা দলকে হারিয়েছিলাম।’

ডারউইনে বাংলাদেশের জয় কতটা বড়, সেটি ম্যাকাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার খেলা দেখতে দেখতে বুঝতে পেরেছেন নাজমুল, ‘আমি যখন ডাগআউটে বসে খেলা দেখছিলাম বা সিøপে ফিল্ডিং করছিলাম, তখন ভাবছিলাম যে আসলেই অনেক বড় দলকে হারিয়েছি আমরা। প্রথম ম্যাচ জেতার পর ব্যক্তিগতভাবে আমার মধ্যে ও রকম উত্তেজনা কাজ করেনি। কিন্তু গত দুই দিনে আমার উপলব্ধি হয়েছে যে আমরা আসলেই অনেক ভালো ম্যাচ জিতেছি। এটা গর্বের ব্যাপার এবং এই জয় আমাদের টেস্ট ক্রিকেটের জন্য অনেক সাহায্য করবে।’

অস্ট্রেলিয়ার উইকেটের কঠিন অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করেই এবার দক্ষিণ আফ্রিকার কঠিন কন্ডিশন জয় করতে চায় বাংলাদেশ দল। আগামী নভেম্বরে জোহানেসবার্গ ও সেঞ্চুরিয়নে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলবে শান্তর দল। এই সফর নিয়ে আশাবাদী অধিনায়ক বলেন, ‘ডারউইনের জয় আমরা কেউই ভুলব না। তবে সেই আবেগ সরিয়ে আমাদের পেশাদার হতে হবে। আমরা নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াতে টেস্ট জিতেছি। এখন আমাদের লক্ষ্য দক্ষিণ আফ্রিকা। সেখানেও যদি আমরা একই রকম জয় ছিনিয়ে আনতে পারি, তবে সেটি আমাদের টেস্ট দলকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।’

তিনি যোগ করেছেন, ‘নিউজিল্যান্ডে আমাদের এমন একটা জয় ছিল, এবার অস্ট্রেলিয়াতে হলো। আশা করি ভবিষ্যতে দক্ষিণ আফ্রিকাতেও হবে। এই ইতিবাচক জিনিসগুলো নিয়েই যাওয়া উচিত। পাশাপাশি যে ভুলগুলো হয়েছে সেগুলো নিয়ে কাজ করতে পারলে আমাদের টেস্ট ক্রিকেট সামনের দিকে যাবে।’

লোয়ার অর্ডারের প্রশংসা : শান্ত বলেছেন, ‘খেলার পরিস্থিতি অনুযায়ী যারা লোয়ার মিডল অর্ডারে ব্যাটিং করেছে তারা এই সিরিজে খুবই ভালো ব্যাটিং করেছে। গত সিরিজ থেকে তারা অবদান রাখা শুরু করেছে, এটা একটা ইতিবাচক দিক। মুশফিক ভাই ওদের নিয়ে খেলছিলেন। আজকের যে পরিস্থিতি ছিল, একা আসলে কিছু করা সম্ভব ছিল না।’ তিনি যোগ করেন, ‘একটা ভালো জিনিস হয়েছে যে এখানে লোয়ার অর্ডাররা ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়েছে এবং এই বোলিংয়ের বিপক্ষে ব্যাটিং করেছে, যা ভবিষ্যতে কাজে দেবে। ওখানে একটা পরিকল্পনা ছিল, কারণ একা অনেক কিছু করা সম্ভব ছিল না। যারা মাঝখানে ব্যাটিং করেছে তারা ঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে।’

টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে সর্বোচ্চ অবস্থানে : ম্যাকাই টেস্টে বাংলাদেশ হেরেছে ইনিংস ব্যবধানে, তাও দুই দিনের মধ্যেই। এরপরও বাংলাদেশ দল গড়েছে নতুন ইতিহাস। টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে প্রথমবারের মতো ষষ্ঠ স্থানে উঠেছে বাংলাদেশ। আইসিসি ওয়েবসাইটে হালনাগাদ করা টেস্ট র‌্যাংকিংয়ে তিন ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ২৪ ম্যাচে ১৮৭৮ পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশের রেটিং এখন ৭৮। এর আগে নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সাত নম্বরে উঠেছিল বাংলাদেশ। সেটি ছিল ২০২৪ সালে পাকিস্তানকে তাদের মাটিতে ২-০ তে সিরিজ হারানোর পর।

বাংলাদেশ এখন পেছনে ফেলেছে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়েকে। বাংলাদেশের উত্থানের কারণে এক ধাপ করে পিছিয়েছে শ্রীলঙ্কা (৭), পাকিস্তান (৮) ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৯)। শীর্ষে আছে অস্ট্রেলিয়া। তাদের রেটিং ১২৬। ১১৯ রেটিং নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা দ্বিতীয়। এরপর নিউজিল্যান্ড, ভারত ও ইংল্যান্ড আছে সেরা পাঁচে। সেরা পাঁচে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত