চট্টগ্রামে স্বাধীনতা বই মেলা জমছে না, লোকসানের শঙ্কা

চট্টগ্রামে আয়োজিত স্বাধীনতা বই মেলা প্রত্যাশিত সাড়া না পাওয়ায় হতাশায় ভুগছেন প্রকাশক ও বিক্রেতারা। গত ৩১ তারিখ থেকে শুরু হওয়া ১৯ দিনব্যাপী এই মেলার ১১ দিন পার হলেও জমে ওঠেনি বই বেচাকেনা। ফলে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে লোকসানের শঙ্কা।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) মেলায় গিয়ে দেখা যায়, দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় থাকলেও তাদের বেশিরভাগই বই কেনার চেয়ে ঘুরতে এসেছেন। অনেকেই পরিবার-পরিজন বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে এসেছেন বলে জানিয়েছেন।

 

দর্শনার্থীদের মতে, আগে ফেব্রুয়ারি মাসে বই মেলা অনুষ্ঠিত হলেও এবার সময় পরিবর্তনের কারণে স্কুল-কলেজের পরীক্ষা ও পড়াশোনার চাপ থাকায় বই কেনার মতো সময় পাচ্ছেন না অনেকে।

মেলার শুরুতে আয়োজকদের প্রত্যাশা ছিল স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে বিপুল সংখ্যক বইপ্রেমীর সমাগম ঘটবে। তবে বাস্তবে প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত সীমিত সংখ্যক দর্শনার্থী এলেও ছুটির দিনগুলোতে ভিড় বাড়ছে, কিন্তু বই বিক্রি তেমন হচ্ছে না।

প্রকাশকদের অভিযোগ, দর্শনার্থীরা স্টলে এসে বই দেখছেন, ছবি তুলছেন, কিন্তু কিনছেন না। এতে করে মেলার ব্যবসায়িক সফলতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। অনেক স্টলে বই পড়তে দেখা গেলেও ক্রেতার সংখ্যা খুবই কম।

বাতিঘর স্টলের এক কর্মকর্তা জানান, ‘মানুষ বই দেখছে, কিন্তু কিনছে না। শুক্রবার হওয়ায় কিছুটা ভিড় হয়েছে, অন্যদিন আরও কম থাকে।’

রুবাব পাবলিকেশন্সের প্রতিনিধি মিনহাজুর রহমান জিহাদ বলেন, ‘এমন সময়ে মেলা হচ্ছে যখন শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় ব্যস্ত। আগে ফেব্রুয়ারিতে হলে বিক্রি ভালো হতো।’

নন্দন প্রকাশনার প্রকাশক সুব্রত চৌধুরী বলেন, ভাষার মাসের আবেগের সঙ্গে এই সময়ের মিল নেই। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, মেলার শেষদিকে বিক্রি বাড়তে পারে।

অক্ষরবৃত্তের প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘মানুষ বই দেখছে, কিন্তু কিনছে না। জ্বালানি সংকট ও অন্যান্য কারণে পরিবার নিয়ে অনেকেই আসতে পারছেন না।

দর্শনার্থী নাঈম উদ্দিন মানে বলেন, অনলাইনমুখী বিনোদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব বই বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে।

চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের সভাপতি শাহাবউদ্দিন হাসান বাবু বলেন, ‘ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ও রোজার কারণে মেলা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। তাই মার্চে স্বাধীনতার মাসে আয়োজন করা হয়েছে। ধীরে ধীরে মানুষ জানতে পারছে, শেষদিকে বিক্রি বাড়বে বলে আশা করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু বিক্রির জন্য নয়, পাঠকের মধ্যে বইয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি করাও মেলার উদ্দেশ্য।’

মেলায় আসা দর্শনার্থী মৌসুমি বলেন, ‘আগে ফেব্রুয়ারির বই মেলার যে আমেজ ছিল, এখন তা নেই। নানা সংকটের কারণে পরিবার নিয়ে আসাও কঠিন হয়ে পড়েছে।’

প্রকাশকরা জানান, স্টল ভাড়া, কর্মচারীদের বেতনসহ দৈনন্দিন খরচের তুলনায় বিক্রি খুবই কম। মেলার বাকি দিনগুলোতে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।