আনোয়ারায় থামছে না বিষ দিয়ে মাছ শিকার

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার কোদালা খালে দুই কিলোমিটার অংশে প্রায়ই ভেসে উঠছে মরা মাছ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, খালের উজানে বিষ ঢেলে মাছ শিকার করছে এক শ্রেণির অসাধু লোক। আর সেই মাছ বিক্রি করার পাশাপাশি রান্না করে খাচ্ছেন এলাকার মানুষ। এদিকে মাছের মৃত্যুর কারণ সন্ধানে নেমে বিষপ্রয়োগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে উপজেলা মৎস্য দপ্তর। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, কয়েকদিন ধরে উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের কোদালা খালে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখেন স্থানীয়রা। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমলোচনার ঝড় ওঠে। পরে জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাশিদুল হক ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষপ্রয়োগে মাছ শিকারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

স্থানীয়রা বলছেন, রাতের আঁধারে একটি সংঘবদ্ধ চক্র খালে বিষ ঢেলে মাছ মেরে সকালে তা সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করছেন। বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর সংযোগ অংশ কোদালা খালসহ বিভিন্ন এলাকায় এভাবে নির্বিচারে মাছ শিকার চলছে। সচেতন মহল জেলেদের এভাবে মাছ শিকারে নিষেধ করলেও তারা শুনছেন না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার কোদালা খালের সøুইসগেট সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জাল বসিয়ে মাছ ধরে আসছিলেন জমির উদ্দীন ও মোজাম্মেল হক। মাছ ধরার সুবিধার্থে সøুইসগেটের প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বিষপ্রয়োগের মতো অবৈধ কর্মকা- চালিয়ে আসছেন তারা।

তবে খালের লোনা পানি পচে মাছ মরছে দাবি করে জমির উদ্দীন বলেন, স্থানীয় কিছু লোক তাকে ফাঁসানোর জন্য এসব ষড়যন্ত্র করছে।

উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্র জানায়, কোদালা খালে বোয়াল, মৃগেল, চিংড়ি, কোরাল, শোল মাছসহ নানা প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। মাছের প্রাচুর্যের কারণে স্থানীয় জেলেদের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকেও শৌখিন ও পেশাদার মাছ শিকারিরা এখানে আসেন। কেউ জাল বা বড়শি দিয়ে, আবার কেউ ডুব দিয়ে মাছ শিকার করেন। সম্প্রতি খালে মাছের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় অসাধু একটি চক্র দ্রুত বেশি মাছ ধরার উদ্দেশ্যে বিষপ্রয়োগ করছে। এতে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ মারা যাচ্ছে এবং জলজ পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এ বিষয়ে জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রাশিদুল হক বলেন, খালসহ উন্মুক্ত জলাশয়ে বিষ দিয়ে দেশি মাছ ধ্বংস করা দ-নীয় অপরাধ। কোদালা খালে বিষপ্রয়োগের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, ‘খালে বিষপ্রয়োগের বিষয়ে পাল্টাপাল্টি দুটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টির তদন্তভার মৎস্য কর্মকর্তাকে দেওয়া হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’