বাগেরহাটে খানজাহান মাজারের

কুমিরের আক্রমণে কুকুরের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান (রহ.) মাজারের দীঘির ঘাটে কুমিরের আক্রমণে কুকুরের মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া এঘটনায় মাজারের নিরাপত্তা প্রহরীসহ এঘটনায় জড়িতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে অ্যানিমেল লাভার সংগঠনগুলো।

এবিষয়ে শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে অ্যানিমেল লাভাররা সঙ্গে প্রশাসনের একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। এসময় তারা চোখের সামনে প্রাণীর এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছে না। তাই তারা অপরাধীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনও নড়েচড়ে বসেছে। ঘটনা তদন্ত করতে বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিয়া খাতুনকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন। তদন্তে যারা দোষীস্যাবস্ত হবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।

কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্র্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম ও   বাগেরহাট প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. ছাহেব আলী।

স্থানীয়রা বলেন, গত ৮ এপ্রিল বুধবার বিকেলে বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান (রহ.) মাজার এলাকায় একটি কুকুর ঘুরাঘুরি করছিল। হঠাৎ কুকুরটি মাজারে ঘুরতে আসা কয়েকজন দর্শনার্থীদের নখের আচড় দেয়। এতে সবাই ক্ষুব্দ হয়ে কুকুরটিকে ধাওয়া দিলে সে দীঘির ঘাটে আশ্রায়। এসময় মাজারের নিরাপত্তাপ্রহরী ফোরকান হাওলাদার ঘাটে গেলে তার ডান পায়ে কুকুরটি নখের আচড় দেয়। পরে সিঁড়িতে পা পিছলে দীঘির পানিতে পড়ে গেলে কুমিরটি তাকে ধরে নিয়ে মেরে ফেলে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মাজারের নিরাপত্তাপ্রহরী ফোরকান হাওলাদার বলেন, মাজারে আসা কয়েকজন দর্শনার্থীকে কুকুরটি কামড়ে দেয়। আমি ঘাটে এসে কুকুরটিকে সরাতে গেলে কুকুরটি আমাকেও কামড় দেয়। পরে তাকে পা দিয়ে লাথি দিলে দীঘির পানিতে পড়ে যাওয়ার পর ঘাটে থাকা কুমিরটি কুকুরটিকে ধরে নিয়ে কামড়ে মেরে ফেলে। ঘাটে লোক থাকলেও কেউ কুমিরের ভয়ে কুকুরটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করেনি। তবে এই কুকুরটিকে কেউ হাতপা বেঁধে পানিতে ফেলে দেয়নি।

এবিষযে বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিয়া খাতুন বলেন, মাজার দীঘির ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখার পর প্রশাসন বিষয়টি খোঁজখবর নিয়েছে। ইতোমধ্যে ঘটনাটি জেলা প্রশাসক  ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। এই ঘটনায় তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।