শিক্ষার শিশুকেন্দ্রিক বাস্তবতা

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, কেবল শিক্ষা নয়। পারিবারিক, প্রাতিষ্ঠানিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক শিক্ষার সমন্বয়ে গড়ে ওঠে অন্তর্গত শিক্ষা। যা আমাদের দেশে সম্পূর্ণভাবে অনুপস্থিত। একটি কাহিনি বলি। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত এক গ্রামের শিশু রাকিব। প্রতিদিন সকালে স্কুলে যাওয়ার জন্য তার আলাদা প্রস্তুতি থাকে- স্কুল ইউনিফর্ম, বাড়ির আদরযত্ন, আর বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হওয়ার অদ্ভুত আনন্দ। আচমকা একদিন ঘোষণা এলো স্কুল বন্ধ, ক্লাস হবে অনলাইনে। শুরুতে ব্যাপারটা, নতুন আর আকর্ষণীয় মনে হয়েছিল। কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই রাকিব চরম বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। বাড়িতে ভালো মোবাইল ফোন নেই, ইন্টারনেট বারবার বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। শিক্ষকের কথা ঠিকমতো শোনা যাচ্ছে না, প্রশ্ন করার সুযোগ পাওয়া যায় না। ধীরে ধীরে রাকিব উৎসাহ হারিয়ে ক্লাসে অনিয়মিত হয়ে যায়। ক্রমান্বয়ে বইয়ের প্রতি আগ্রহ কমে। একসময় পড়াশোনা যেন, জীবনের বাইরে চলে যেতে শুরু করল। রাকিবের এ ঘটনা বাংলাদেশের হাজারো শিশু শিক্ষার্থীর বাস্তবতা। স্কুল শুধু পড়াশোনার জায়গা নয় এটা সামাজিকতা, আনন্দ আর স্বপ্ন দেখার বৃহৎ পরিসর। যখন হঠাৎ অনলাইন ক্লাসে যেতে হয়, তখন সেই স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন ভেঙে পড়ে। ডিভাইসের অভাব, দুর্বল ইন্টারনেট, মনোযোগের ঘাটতি সব মিলিয়ে শিশুর কাছ থেকে শিক্ষা, ধীরে ধীরে দূরে সরে যায়।

জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে, অনলাইন শিক্ষার প্রস্তাব সামনে আসায় সেই পুরনো অভিজ্ঞতা পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সরকারের যুক্তি এতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, দেশের মোট জ্বালানি ব্যবহারের তুলনায় শিক্ষা খাতের অংশ খুব সামান্য। প্রশ্ন উঠেছে সহজ সমাধান খুঁজতে গিয়ে কি আবার শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাগারের ইস্যু করা হচ্ছে! করোনাকালের অভিজ্ঞতা স্পষ্ট করে দিয়েছে, অনলাইন শিক্ষা সবার জন্য, সমানভাবে কার্যকর নয়। বিশেষ করে, গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে পড়ে। অনেকের কাছে প্রয়োজনীয় ডিভাইস নেই, থাকলেও সেটা ভাগাভাগি করে ব্যবহার করতে হয়। ফলে এই ক্লাস কার্যত ‘শিক্ষার বাইরে থাকা’র মতো পরিস্থিতি তৈরি করে। অভিভাবকদের বড় উদ্বেগ হচ্ছে, শিশুর মোবাইল ফোনের নির্ভরতা। অনলাইন ক্লাসের কারণে শিশুদের হাতে স্মার্টফোন তুলে দিতে হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে পড়াশোনার চেয়ে গেমস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তির দিকে ঠেলে দেয়। একইসঙ্গে অনলাইন নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ে। ফলে শিক্ষা শুধু জ্ঞান অর্জনে সীমাবদ্ধ থাকে না, এটা শৃঙ্খলা ও মানসিক বিকাশের ক্ষেত্র হিসেবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন শিক্ষা একটি সহায়ক মাধ্যম হতে পারে, কিন্তু এটি কখনো মূলধারার বিকল্প নয় বিশেষ করে, দেশের অবকাঠামো ও প্রস্তুতি যখন সমানভাবে গড়ে ওঠেনি। তাই জ্বালানি সংকট মোকাবিলার জন্য, শিক্ষাব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করা টেকসই সমাধান নয়। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক উত্তেজনা সেই অস্থিরতাকে আরও তীব্র করে তুলেছে। এর প্রভাব সরাসরি এসে পড়েছে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর, বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনা এখনো নানামুখী চ্যালেঞ্জে আবদ্ধ। এমন বাস্তবতায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের যুক্তিতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন শিক্ষার বিষয়টি আলোচনায় আসছে। নীতিনির্ধারণের দৃষ্টিকোণ থেকে, এটা দ্রুত সমাধানের মতো মনে হতে পারে। কিন্তু শিক্ষার বাস্তবতা, গবেষণালব্ধ অভিজ্ঞতা এবং শিশুর শেখার প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয় এই মুহূর্তে অনলাইন নির্ভর শিক্ষা কার্যকর বা টেকসই পথ নয়। শিক্ষা এমন একটি প্রক্রিয়া, যা সময়, পরিবেশ এবং পারস্পরিক যোগাযোগের ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে। এটা কেবল পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু আয়ত্ত করার বিষয় নয় বরং একজন শিশুর মানসিক, সামাজিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের সমন্বিত ক্ষেত্র। কোভিড-১৯ মহামারীর সময় বিশ্বজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে বাধ্য হয়েই অনলাইন শিক্ষায় ঝুঁকতে হয়েছিল। তখন এটাকে ‘বিকল্প’ হিসেবে নয়, বরং ‘জরুরি ব্যবস্থা’ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়ের অভিজ্ঞতা এখন বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, এই পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার মান ধরে রাখতে পারেনি।

আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফ ও ইউনেসকোর বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, মহামারীকালে অনলাইন শিক্ষার ফলে সবচেয়ে বড় যে ক্ষতি হয়েছে তা হলো ‘লার্নিং লস’ অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের শেখার ধারাবাহিকতায় বড় ধরনের ঘাটতি। অনেক শিক্ষার্থী মৌলিক দক্ষতা, বিশেষ করে ভাষা ও গণিতে, প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এই চিত্র আলাদা ছিল না। দীর্ঘসময় স্কুল বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শেখার ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা এখনো পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে আবার একই পথে ফিরে যাওয়ার প্রস্তাব স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। শুধু প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাই নয়, শেখার গুণগত দিক থেকেও অনলাইন শিক্ষা পিছিয়ে পড়ে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সরাসরি যোগাযোগ যে শিখন পরিবেশ তৈরি করে, তা ভার্চুয়াল মাধ্যমে পুনরুৎপাদন করা কঠিন। একজন শিক্ষক যখন শিক্ষার্থীর চোখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারেন, সে পড়া বুঝতে পারছে কি না বা তাৎক্ষণিকভাবে প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন এই সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো,  অনলাইন ক্লাসে অনুপস্থিত থাকে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী বিষয়বস্তু ঠিকমতো আয়ত্ত করতে পারে না, আবার অনেকেই অংশগ্রহণ করা থেকে ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আবার এর সঙ্গে যুক্ত হয় মানসিক ও সামাজিক প্রভাব। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে থাকা, সহপাঠীদের সঙ্গে সরাসরি মেলামেশার সুযোগ না থাকা এবং এক ধরনের একাকিত্ব এ সবই শিশুদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আবারও বলি, গুরুত্ব দিয়ে মনে রাখতে হবে যে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয় শুধু শেখার জায়গা নয়, এটা সামাজিকীকরণেরও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। যেখানে পারস্পরিক মেলামেশা, মতবিনিময় ও অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শিশুদের কার্যকর বিকাশ চলমান থাকে। সেই ক্ষেত্রটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে একেবারেই অনুপস্থিত। এই বাস্তবতায় অনেকেই হাইব্রিড শিক্ষার কথা বলছেন, যেখানে অনলাইন ও সশরীরে ক্লাসের সমন্বয় থাকবে। ধারণাটি তাত্ত্বিকভাবে আকর্ষণীয় হলেও এর কার্যকারিতা নির্ভর করে শক্তিশালী অবকাঠামো, প্রশিক্ষিত শিক্ষক এবং উপযোগী কারিকুলামের ওপর।

উন্নত দেশগুলোর অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই পদ্ধতি সফলভাবে প্রয়োগ করতে পারলেও, বাংলাদেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেই প্রস্তুতি এখনো নেই। এখনো অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের কাছে এই হাইব্রিড শিক্ষার ধারণা একবারেই নতুন। ফলে এটা যদি ধারাবাহিক শিক্ষার বিকল্প শিক্ষাদান পদ্ধতি হিসেবে পরিকল্পনাহীনভাবে চালু করা হয়, তাহলে তা সমাধানের চেয়ে নতুন সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাহলে প্রশ্ন আসে জ্বালানি সংকটের এই বাস্তবতায় কী করা উচিত? তাৎক্ষণিকভাবে বলা যেতে পারে, এখানে প্রয়োজন এমন কিছু কৌশল, যা একদিকে বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে শিক্ষার মান অক্ষুন্ন রাখবে। বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি বলছে, সশরীর শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েই এই সংকট মোকাবিলা করতে হবে। শ্রেণিকক্ষের সময় কমিয়ে এনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অগ্রধিকার দিয়ে পড়ানো এবং শ্রেণিকক্ষের বাইরে পাঠদান একটি কার্যকর উপায় হতে পারে। এতে যেমন বিদ্যুৎ ব্যবহার কমবে, তেমনি শিক্ষার্থীরাও সরাসরি শেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে না। একইসঙ্গে দিনের আলোকে সর্বোচ্চ ব্যবহার করে সকালভিত্তিক ক্লাস চালু করা গেলে, বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। এই পদ্ধতি অনেক দেশেই সংকটকালে সফলভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে আমরা যদি স্কুলের সময়সূচি এমনভাবে নির্ধারণ করি, যাতে দিনের আলোর পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত হয়, তবে অতিরিক্ত বিদ্যুতের প্রয়োজন হবে না। একইসঙ্গে পাড়াভিত্তিক বা কমিউনিটিভিত্তিক ছোট ছোট শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তুললে জ্বালানি যেমন সাশ্রয় হবে, তেমনি শিক্ষার্থীরাও যাতায়াতের ক্লান্তি থেকে মুক্তি পাবে।  দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো টেকসই সমাধান হতে পারে। পাশাপাশি শিফটভিত্তিক ক্লাস চালু করে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ভাগ করে দিলে বিদ্যুৎ ব্যবহারের চাপ কমানো যায়, আবার সরাসরি শিক্ষার ধারাবাহিকতাও বজায় থাকে। এমনকি কম প্রযুক্তিনির্ভর বিকল্প, যেমন টেলিভিশন, কমিউনিটি রেডিও বা প্রিন্টেড লার্নিং ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করেও সহায়ক শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব যা অনলাইন নির্ভরতার তুলনায় অনেক বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক। গুরুত্বপূর্ণ হলো নীতিনির্ধারণে শিশুদের শেখার স্বার্থকে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা। কোনো সিদ্ধান্ত যদি এমন হয়, যা সব শিক্ষার্থীর জন্য সমানভাবে কার্যকর নয়, বরং বৈষম্য বাড়ায়, তাহলে সেটা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়।

জ্বালানি সংকট একটি বাস্তব সমস্যা, কিন্তু তার সমাধান হিসেবে শিক্ষার মান বিসর্জন দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কোভিড-১৯ আমাদের গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দিয়েছে অনলাইন শিক্ষা জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প হতে পারে, কিন্তু এটা কখনোই পূর্ণাঙ্গ সমাধান নয়। বরং এটা একটি সাময়িক ব্যবস্থা, যা দীর্ঘমেয়াদে নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি করে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে যুক্তিসংগত পথ হলো বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে সশরীর শিক্ষাকে টিকিয়ে রাখা এবং তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কৌশলগুলো প্রয়োগ করা। শিক্ষা নিরবচ্ছিন্ন মানবিক সাধনা। জ্বালানি সংকট আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে, কৃত্রিমতার চেয়ে প্রকৃতির শক্তি অনেক বেশি টেকসই। অনলাইন ক্লাসের নীল আলোর মোহ কাটিয়ে শিশুদের আবার খেলার মাঠ, লাইব্রেরি এবং মানুষের সাহচর্যে ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রযুক্তির ব্যবহার থাকবে কেবল সহায়ক হিসেবে, মূল শক্তি হবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যকার প্রাণবন্ত সম্পর্ক। যদি আমরা শিশুদের কেন্দ্র করে প্রকৃতিবান্ধব এবং বাস্তবমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারি, তবে কেবল জ্বালানি সংকট নয়, যেকোনো বৈশ্বিক দুর্যোগ মোকাবিলা করার মতো সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রজন্ম গড়ে উঠবে। সংকটের এই কালবেলাকে শিক্ষার নবজাগরণের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করাই হবে সময়ের সঠিক দাবি। মনে রাখতে হবে, জ্বালানি সংকট একসময় কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। কিন্তু একটি প্রজন্মের শিক্ষার যে ক্ষতি হয়ে যায়, তা সহজে পূরণ করা যায় না। তাই আজকের সিদ্ধান্তগুলো এমন হতে হবে, যা ভবিষ্যতের শিক্ষাকে শক্তিশালী করবে দুর্বল নয়।

লেখক: চাইল্ড কেয়ার, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড এডুকেশন কনসালটেন্ট, ইউনিসেফ

dipumahmud1971@gmail.com