কম্বোডিয়ার ‘টোনলে স্যাপ’ নদী, বছরের নির্দিষ্ট সময়ে উল্টো দিকে প্রবাহিত হয়। এটি পৃথিবীর বিরল প্রাকৃতিক ঘটনা। বর্ষাকালে মেকং নদীর অতিরিক্ত পানির চাপে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়। ফলে পানি উল্টো দিকে গিয়ে বিশাল লেক তৈরি করে। ২৫০ কিমি লম্বা নদীটির প্রবাহ দক্ষিণমুখী। কিন্তু বন্যায় যখন মেকংয়ের জলস্তর অনেক ওপরে উঠে, তখন কয়েক মাস এর প্রবাহ উত্তরমুখী থাকে। পৃথিবীর একটি নদীতেই উভয়মুখী স্রোত দেখা যায়। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম মিষ্টি জলের প্রবাহ। ‘টোনলে স্যাপ’য়ের জলপথটি পৃথিবীর অন্যতম সমৃদ্ধ মাছের উৎস। এটি কম্বোডিয়ার লাখ লাখ মানুষের খাবার ও জীবিকার প্রধান ভিত্তি। নদীর দুই তীরে বহু মানুষ খুঁটির ওপর ঘর বা ভাসমান গ্রামে বাস করে। মেকংয়ের বন্যা শুধু পানি নয়, তার সঙ্গে পলি ও পুষ্টি উপাদান নিয়ে আসে। ফলে আশপাশের বিশাল এলাকা পানিতে ডুবে গিয়ে মাছ ও জলজ প্রাণীদের জন্য সমৃদ্ধ আবাসস্থল তৈরি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, বর্ষাকালে মেকংয়ের পানির স্তর প্রায় ৮ মিটার বাড়াতে পারে। বর্ষা শেষ হলে পানির স্তর আবার কমতে থাকে। তখন আগের চাপে পরিস্থিতি উল্টে যায় এবং জমে থাকা পানি আবার মেকংয়ের এর দিকে প্রবাহিত হয়। অর্থাৎ নদীটি স্থায়ীভাবে দিক বদলায় না। প্রতি বছর বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমের সঙ্গে প্রাকৃতিকভাবে এর প্রবাহের দিক উল্টে দেয়। পৃথিবীতে এমনটি আর দেখা যায় না। বিজ্ঞানীরাও প্রকৃতির রহস্যময় আচরণ মেনে নিয়েছেন।
পৃথিবীর একমাত্র নদীর প্রবাহ দুদিকে
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৬ এএম
আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৬ এএম
পৃথিবীর একমাত্র নদীর প্রবাহ দুদিকে
×
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
- ১
- ২
- ৩
- ৪
- ৫
- ৬
- ৭
- ৮
- ৯
- ১০
- ১
- ২
- ৩
- ৪
- ৫
- ৬
- ৭
- ৮
- ৯
- ১০