শিরীন শারমিন জামিনে মুক্ত

জামিনে কারামুক্ত হয়েছেন সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। গতকাল রবিবার বিকেলে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পাঁচ দিন পর তিনি জামিন পেলেন।

কারাগারের সিনিয়র জেল সুপারিনটেনডেন্ট কাওয়ালিন নাহার এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, রবিবার সন্ধ্যা ৬টা ২৮ মিনিটে শিরীন শারমিন কারাগার থেকে মুক্তি পান।

এর আগে গতকাল সকালে জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ে রাজধানীর লালবাগ থানা এলাকায় আশরাফুল নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। গতকাল ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালতে শিরীন শারমিনের আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

আদালতে শিরীন শারমিনের জামিনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী এ বি এম হামিদুল মিসবাহ, ইবনুল কাওসার ও নাজিয়া কবির। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ঢাকা মহানগর দায়রা আদালতের প্রধান কৌঁসুলি ওমর ফারুক ফারুকী। 

এ সময় অ্যাডভোকেট এ বি এম হামিদুল মিসবাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শিরীন শারমিনের বিরুদ্ধে আরও কোনো মামলা নেই। নতুন মামলায় তাকে আটকাদেশ না দিলে তার কারামুক্তিতে বাধা নেই।’ 

এর আগে আদালতে জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘শিরীন শারমিন একজন অবৈধ এমপি, একজন অবৈধ স্পিকার। তিনি শেখ হাসিনাকে সমর্থন করে তাকে ফ্যাসিস্ট বানাতে সহযোগিতা করেছেন। এই মামলার এজাহারনামীয় আসামি তিনি। উনার চেয়েও আরও বয়স্ক আসামি কারাগারে আছেন। জেলকোড অনুযায়ী চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি জামিন পেলে মামলার তদন্তে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।’ শুনানি শেষে বিচারক শিরীন শারমিনের জামিন মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানম-ির ৮/এ রোডের একটি বাসা থেকে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন দুপুরে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ।

এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহসীন উদ্দীন। অপরদিকে তার আইনজীবী জামিন চেয়ে আবেদন করেন।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা রিমান্ড ও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে ড. শিরীন শারমিনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, চব্বিশের আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই লালবাগ থানাধীন আজিমপুর সরকারি কলোনির ভেতরে মিছিল করছিলেন ভুক্তভোগী মো. আশরাফুল ওরফে ফাহিম। ঘটনার দিন আসামিদের ছোড়া গুলিতে আশরাফুলের বাম চোখ নষ্ট হয়ে যায়।

এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই লালবাগ থানায় ভুক্তভোগী আশরাফুল বাদী হয়ে একটি হত্যা চেষ্টার মামলা দায়ের করেন। মামলায় শিরীন শারমিন চৌধুরীর এজাহারনামীয় তিন নম্বর আসামি।