বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) গত দুই বছরের অস্থিরতা যেন কোনো সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। তিনবার সভাপতি বদল, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন আর অপমানজনক বিদায় —সব মিলিয়ে দেশের ক্রিকেট টালমাটাল। নীরব দর্শক হয়েই এসব কাণ্ড দেখেছেন জাতীয় দলের কোচ ফিল সিমন্স। নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসে এসব নাটকীয়তা নিয়ে তার কণ্ঠে ঝরল এক দার্শনিক নির্লিপ্ততা।
দুই বছরে তিনবার সভাপতি পরিবর্তনের মতো নজিরবিহীন ঘটনাকে তিনি কীভাবে দেখছেন? প্রশ্নটা শেষ হওয়ার আগেই এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল সাবেক এই ক্যারিবিয়ান তারকার মুখে। সংক্ষিপ্ত জবাবে বললেন, ‘জীবনে কোনো কিছু এখন আর আমাকে অবাক করে না।’
২০২৪ সালের জুলাইয়ে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নাজমুল হাসান পাপনের এক যুগের রাজত্বের অবসান ঘটে। এরপর ফারুক আহমেদ দায়িত্ব নিলেও থিতু হতে পারেননি। অন্তর্বর্তী সরকার তাকে সরিয়ে আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে দায়িত্ব দিলেও সেই অধ্যায়ও ছিল বিতর্কে ঘেরা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বুলবুলের বিদায়টাও হয় অসম্মানজনক।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তদন্তে বুলবুলের অনিয়ম ফাঁস হলে বুলবুলকে সরিয়ে গঠন করা হয় অ্যাডহক কমিটি। আর সেই কমিটির প্রধান হিসেবে বিসিবির মসনদে বসেন তামিম ইকবাল। খেলোয়াড়ী জীবনকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় না জানিয়ে বা এত কম বয়সে বোর্ডের সর্বোচ্চ পদে তামিমের বসা নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হলেও সিমন্স এই বিতর্কে জড়াতে চাননি। তিনি শুধু বললেন, ‘আমরা বরং ক্রিকেটেই থাকি।’