গেস্টরুমে ভয়াবহ নির্যাতনের বিবরণ ছাত্রলীগ নেতার

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হলের ‘গেস্টরুমে’ জুনিয়রদের ‘আদব-কায়দা’ শেখানোর নামে যে ‘নির্যাতনের সংস্কৃতি’ চালু করেছিল ছাত্রলীগ (বর্তমানে নিষিদ্ধ), তার বিবরণ ফেসবুকে তুলে ধরেছেন এ সংগঠনেরই এক নেতা। নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী রাহুল ছিলেন ছাত্রলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক; থাকতেন স্যার এফ রহমান হলে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গত বছর যে ১২৮ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেছিল, তাদের মধ্যে রাহুলও রয়েছেন।

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ২০২২ সালের পহেলা বৈশাখের রাতে হলে ‘গেস্টরুম’ নির্যাতনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া এবং এক ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে ছবি তোলা কেন্দ্র করে তাকে ডেকে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়।

রাহুলের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই রাতে অসুস্থ শরীরে তিনি হলে না থেকে অন্যত্র ছিলেন। পরে ফোনে তাকে হলে ডেকে নেওয়া হয়। ১০৮ নম্বর কক্ষে সিনিয়রদের উপস্থিতিতে তাকে একা রেখে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। সেখানে চড়-থাপ্পড়, লাথি, বালিশ ও স্ট্যাম্প দিয়ে মারধরের অভিযোগ করেন তিনি। একাধিক সিনিয়র একসঙ্গে তাকে প্রশ্ন করে ও গালাগালির মাধ্যমে নির্যাতন চালায় বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, নির্যাতনের সময় তার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত লাগে এবং একপর্যায়ে তিনি পড়ে যান। পরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর তাকে আবার হলে ডেকে এনে গালাগালি করা হয় এবং শাস্তিস্বরূপ ৭ দিনের জন্য হল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

রাহুল দাবি করেন, শুধু ওই রাতেই নয়, এমন ‘সিঙ্গেল গেস্টরুম’ নির্যাতনের অভিজ্ঞতা তার অন্তত ৮ বার হয়েছে। দীর্ঘদিন বিষয়টি গোপন রাখার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, প্রকাশ করলে হলে থাকা ও ছাত্ররাজনীতি করা কঠিন হয়ে যেত এবং প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক চাপ তৈরি হতো।

পরে আরেক পোস্টে তিনি নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী ও এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সহসম্পাদক আরিফুজ্জামান সৌরভ এ নির্যাতনে জড়িত ছিলেন। তার দাবি, সৌরভ এখনো হলে অবস্থান করছেন এবং সামাজিক মাধ্যমে জামায়াত-শিবিরপন্থি কর্মকা- ও অ্যাক্টিভিজমের সঙ্গেও যুক্ত।