৬৩তম জন্মদিনের কেকটা কাটবেন আগামী শনিবার। ফিল সিমন্স তার জীবদ্দশায় কম তো দেখেননি কিছু! ভিভ রিচার্ডসের সতীর্থ ছিলেন; ইমরান খানের বিপক্ষেও খেলেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বিশ্ব শাসন করতে দেখেছেন আবার বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে যেতেও দেখেছেন। তাই বোধহয় বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনের শীর্ষপদে একের পর এক রদবদলে অবাক হননি জাতীয় দলের এই ক্যারিবিয়ান কোচ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে প্রথম দিকের কয়েকটা প্রশ্ন ছিল তামিম ইকবালের বিসিবি সভাপতি বনে যাওয়া সংক্রান্ত। এই বয়সে এসে কোনো কিছুই আর তাকে অবাক করে না জানিয়ে সিমন্স হেসে উত্তর দিলেন, ‘আমরা বরং ক্রিকেট নিয়েই থাকি’।
২০২৪ সালের অক্টোবরে, চন্ডিকা হাথুরুসিংহের পর বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন সিমন্স। তখন বিসিবির সভাপতির চেয়ারে ফারুক আহমেদ। সহ-পরিচালকদের অনাস্থায় সভাপতিত্ব হারান ফারুক, তার জায়গায় আসেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তিন মাসের জন্য ‘টি-টোয়েন্টি’ ইনিংস খেলার ঘোষণা দিয়ে আসা বুলবুল এরপর নির্বাচন করলেন, সভাপতি নির্বাচিত হলেন। ফারুক ফিরলেন সহসভাপতি হিসেবে। সেই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত তকমা দিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ভেঙে দিল বিসিবির নির্বাচিত বোর্ড, অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল। ২০২৭ সালের অক্টোবর নভেম্বর পর্যন্ত অর্থাৎ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত মেয়াদ সিমন্সের। তামিমের নেতৃত্বাধীন বোর্ড যদি ৩ মাসের ভেতর নির্বাচন দেয় তাহলে হয়তো চাকরি থাকতে থাকতে আরও একজন বিসিবি প্রেসিডেন্ট দেখবেন সিমন্স। শীর্ষ পর্যায়ের এই রদবদল কতটা প্রভাব ফেলে মাঠে? এমন প্রশ্নে সিমন্সের উত্তর, ‘প্রথমত, এটি আমরা যা করি, যেভাবে প্রশিক্ষণ নেই এবং আমাদের যে ক্যাম্প ছিল তার ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না। এটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং সেভাবেই সম্পন্ন করা হয়েছে। যদি আপনি জিজ্ঞেস করেন, এটি খেলোয়াড়দের ওপর কেমন প্রভাব ফেলে, তবে আপনাকে খেলোয়াড়দেরই জিজ্ঞেস করতে হবে; কারণ আমি আসলে কোনো মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব দেখছি না। কারণ তারা তাদের সব কাজ করেছে, বরাবরের মতো কঠোর পরিশ্রম করেছে এবং কেউ কেউ তো আগের চেয়েও বেশি পরিশ্রম করেছে। সুতরাং, এই সিরিজের প্রস্তুতির জন্য যা যা প্রয়োজন, তার সবই তারা এখনো করে যাচ্ছে। সভাপতি পদে আসার পর তামিম ইকবালের সঙ্গে আলাপ হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে সিমন্সের জবাব, ‘হ্যাঁ, তার সঙ্গে আমরা যারা কোচিং স্টাফে আছি তাদের সবার কথা হয়েছে। গতকাল না, দুই দিন আগে যখন খেলা চলছিল, তখন তিনি ড্রেসিংরুমে এসেছিলেন এবং আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। হ্যাঁ, কয়েকবারই কথা হয়েছে।’
সিমন্স বাংলাদেশের কোচ হিসেবে যোগদানের পর তিনজনকে দেখেছেন বিসিবি সভাপতির চেয়ারে, তিনজনই সাবেক ক্রিকেটার। এত দ্রুত পরিবর্তন তাকে অবাক করেছে কি না জানতে চাইলে সিমন্সের উত্তর, ‘জীবনের কোনো কিছুই এখন আর আমাকে অবাক করে না। আর এটা শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নয়, জীবনের অভিজ্ঞতাই এমন। আমি যথেষ্ট চড়াই-উতরাই দেখেছি এটা জানার জন্য যে, প্রতিদিন কত কিছু ঘটে। তাই আমি কোনো কিছুতেই অবাক হই না।’ সঙ্গে যোগ করলেন, তার কাজের ক্ষেত্রে পদ পরিবর্তনের কোনো সরাসরি প্রভাব নেই, ‘দেখুন, তারা তো আর ‘হেড কোচ’ হিসেবে আসছেন না। তাই আমাকে যা করতে হবে আমি সেটাই করে যাচ্ছি, কারণ আমরা কোনো কিছুর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং নতুন কিছু গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। তাই আমরা আমাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আমি এটি অবশ্যই উল্লেখ করব যে, কেউ এসে আমাদের লক্ষ্য বা আমরা যা গড়ে তোলার চেষ্টা করছি তা পরিবর্তন করার চেষ্টা করেনি। তাই আমরা যা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এখানে এসেছিলাম, তা গড়ার কাজ এখনো চালিয়ে যাচ্ছি।’
দীর্ঘ খেলোয়াড়ি জীবনের পর কোচ হিসেবে সিমন্স কাজ করেছেন জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তান দলে। বাংলাদেশে সিমন্স যখন এসেছেন, তামিম তখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলেননি। খেলছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে। সেখান থেকে বছর দুয়েকের মাথায় বিসিবি সভাপতি। এমন নজির কোথাও কী দেখেছেন? জানতে চাইলে সিমন্স খানিকটা বিরতি নিয়ে হেসে উত্তর দিলেন, আমরা বরং ক্রিকেটেই থাকি।’ ইঙ্গিতটা স্পষ্ট, বিসিবি সভাপতি প্রসঙ্গে আর কিছুই যে বলতে চাইছেন না তিনি!