অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে সতর্ক বাংলাদেশ

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫০ এএম

ডারউইনে যে গল্পের শুরু, ম্যাকাইয়ে সেটির শেষ অধ্যায়। তবে শেষটা কেমন হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। এক ম্যাচ আগেও যে অস্ট্রেলিয়াকে অনেকেই অজেয় মনে করেন, সে দলটা বাংলাদেশের কাছে মাত্র সাড়ে তিন দিনে আত্মসমর্পণ করে। ঐতিহাসিক এই জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুনত্বের আলো ছড়াচ্ছে। কিন্তু সেই আলোয় যেন চোখ ধাঁধিয়ে না যায়, সে সতর্কতাও আছে। প্রতিপক্ষ দলের নাম যে অস্ট্রেলিয়া, যারা ক্রিকেট বিশ্বে অনেক ইতিহাস নিজেদের নামে লিখেছে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়, সেটা অনেকবার দেখিয়েছে তারা। এজন্য সাবধানী বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স।

আগামীকাল ম্যাকাইয়ে তাদের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের সামনে নিজেদের ইতিহাস নতুন করে লেখার হাতছানি। জিতলে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়, এমনকি ড্র করলেও নিশ্চিত হবে সেই একই অর্জন। অর্থাৎ ডারউইনের জয় বাংলাদেশকে যে অবস্থানে এনে দাঁড় করিয়েছে, সেখান থেকে এখন আরেক ধাপ এগোলেই লেখা হবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে এখন অবধি সবচেয়ে বড় অধ্যায়।

কিন্তু পথটা যে মোটেও সহজ নয়, সেটিই মনে করিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান কোচ। অস্ট্রেলিয়ার দুর্গে ঢুকে সিরিজ জেতা বেশ কঠিন কাজ। এবার সেই দরজায় কড়া নাড়ছে বাংলাদেশ। তবে অস্ট্রেলিয়ার পাল্টা আঘাতও সামলাতে হবে। সিমন্স তাই ডারউনের জয় নিয়ে পড়ে থাকতে রাজি নন। বরং জয় যত বড়, সতর্কতাটাও তত বেশি। গতকাল অনুশীলনের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘আমি দলকে শুধু একটাই কথা বলেছি এবং তা যেকোনো জায়গায় আমি আবার বলতে প্রস্তুত, অস্ট্রেলিয়া আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ফিরে আসবে। তাই আমাদের হয় পারফরম্যান্সের আরও একটু উন্নতি করতে হবে, নতুবা এই ধারা বজায় রাখতে হবে।’

সিমন্সের এ সতর্কবার্তার ভেতরেই লুকিয়ে আছে বাংলাদেশের পরবর্তী পরীক্ষার কঠিন বাস্তবতা। ডারউইনে যে জায়গাগুলোতে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলেছিল, এবার সেখানেই পাল্টা পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন স্বাগতিকরা। এজন্য সাবধানী বার্তা সিমন্সের কণ্ঠে, ‘কোনো কোনো ক্ষেত্রে যদি আমরা মাত্র ১ শতাংশও ভালো করতে পারি, তবে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন সেই উন্নতিটুকু থাকে। তারা তাদের কৌশলে পরিবর্তন আনবে এবং আমাদের ওপর আরও কঠিন আক্রমণ চালাবে।’

ডারউইনের জয় পাওয়ার আগে স্বস্তিতে ছিল না বাংলাদেশ দল। জিম্বাবুয়ে সফরের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা। সেই দলই কয়েক দিনের ব্যবধানে অজি মূল দলকে হারিয়েছে। তাই এই বদলে যাওয়ার গল্পের পেছনে বড় হয়ে উঠেছে মানসিক দৃঢ়তা। বিশ্বাসের ফল পেয়েছেন সিমন্স, ‘আমি দলের অনুশীলনগুলো দেখেছি। ছেলেরা তিন দিনের ম্যাচের আগে কীভাবে অনুশীলন করেছে ও টেস্ট ম্যাচের আগের তিন দিন কীভাবে অনুশীলন করেছে, তা আমি দেখেছি। আমাদের পরিশ্রমের ধরন বদলায়নি।’

এবার সাফল্যকে ধরে রাখার পালা। ডারউইনে বাংলাদেশের জয় ছিল অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের বড় বার্তা। তাই ম্যাকাই টেস্টের আগে দলের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। এই জয় সিমন্সের নিজের ক্যারিয়ারেও বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। তবে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস যতই উঁচুতে থাকুক, অস্ট্রেলিয়াকে দুর্বল ভাবার কোনো সুযোগ নেই। ডারউইনের পর ঘুরে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে স্বাগতিকরা। নিজেদের ভুলগুলো খুঁজে বের করে নতুন পরিকল্পনা সাজানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের শক্তির জায়গাগুলো নিয়েও কাজ করছে তারা। যদিও ডারউইনে নিজেদের হারকে বাংলাদেশের সামর্থ্যরে প্রমাণ বলে স্বীকার করেন অজি অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন, ‘এটা আমাদের অবাক করেনি। আমরা জানতাম, তারা ভালো দল। তারা শুধু দারুণ একটা ম্যাচ খেলেছে এবং প্রথম দিনের পর আর আমাদের সত্যিকার অর্থে ম্যাচে ফিরতে দেয়নি। প্রথম দিনের পরই আমরা জানতাম, আমাদের সামনে অনেক বড় লড়াই। আর বাংলাদেশ শুধু আমাদের গলার ওপর পা রেখেই গেছে। ম্যাচে ফেরার কোনো সুযোগই তারা আমাদের আসলে দেয়নি। আমরা অনেক কিছু চেষ্টা করেছি, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেগুলো ঠিকমতো কাজে আসেনি।’

অস্ট্রেলিয়া এবার জানে বাংলাদেশের শক্তি কোথায়, দুর্বলতা কোথায় এবং কোন জায়গায় আঘাত করলে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়া সম্ভব। এজন্য ম্যাকাইয়ের দ্বিতীয় টেস্ট হয়ে উঠছে বাংলাদেশের কাছে সত্যিকারের অগ্নিপরীক্ষা। ডারউইনে ইতিহাস লিখেছে ঠিকই, তবে সেটাকে আরও স্মরণীয় করে তুলতে পারবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা?

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত