প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘দেশের কৃষক যদি সচ্ছল থাকে, কৃষক যদি বেঁচে থাকে, কৃষক যদি ভালো থাকে; তাহলে সমগ্র বাংলাদেশ ভালো থাকবে। সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকবে।’ গত মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষক কার্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ১৫ জন প্রান্তিক কৃষকের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেওয়ার মাধ্যমে দেশের ১১ উপজেলায় প্রি-পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ১৫ কৃষকের হাতে গাছের চারাও তুলে দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী ল্যাপটপের বাটন চাপার সঙ্গে সঙ্গে টাঙ্গাইলসহ দেশের ১১ উপজেলার ২০ হাজার ৬৭১ ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের প্রত্যেকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে যায় আড়াই হাজার টাকার নগদ অর্থ। তবে উল্লিখিত উপজেলাগুলোতে কৃষক কার্ড দেওয়া হচ্ছে ২২ হাজার ৬৫ জনকে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান নির্বাচিত সরকারের লক্ষ্যকৃষককে আত্মনির্ভরশীল ও সচ্ছল হিসেবে গড়ে তোলা। সেজন্যই আমরা এই কৃষক কার্ড দিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে কৃষি মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত দুই কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের কাছে কৃষিকার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের সব কৃষকের কাছে এ সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা নিশ্চয়ই অবগত হয়েছেন যে, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আমরা কৃষকের কাছে সরাসরি ১০টি সুবিধা পৌঁছে দিতে চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। ১০টি সুবিধার মাধ্যমে কৃষক তার অবস্থান অনেক ক্ষেত্রে পরিবর্তন করতে সক্ষম হবেন।’
এ সুবিধাগুলোর মধ্যে রয়েছে ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, কৃষি প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ, স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি, মোবাইলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য, ফসলের রোগ-বালাই দমনে পরামর্শ, কৃষি বীমা এবং ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রয়ের সুবিধা। জানা গেছে, সরকার ধারাবাহিকভাবে এসব সুবিধা নিশ্চিত করবে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ বর্তমানে সামাজিক অনুষ্ঠানে রূপ নিলেও এর শেকড় আমাদের কৃষকদের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কৃষকদের হালখাতা ও হিসাব-নিকাশের মাধ্যমেই এ উৎসবের শুরু। তাই এ দিনটিতেই আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের কাজ শুরু করলাম।’
কৃষিঋণ মওকুফ ও সরকারের সাফল্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করেছে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। এর মাধ্যমে সেচ সমস্যার সমাধান হবে এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসবে। এটি বন্যা নিয়ন্ত্রণেও বড় ভূমিকা রাখবে।’ টাঙ্গাইলের আনারসের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘সিজন ফুরিয়ে গেলে অনেক সময় কৃষকরা ফসলের ন্যায্যমূল্য পান না। আমরা পরিকল্পনা করছি, প্রতিটি অঞ্চলে কোল্ডস্টোরেজ বা হিমাগার নির্মাণের। এ ছাড়া কৃষিজাতপণ্য বিদেশের বাজারে রপ্তানির জন্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে কৃষক লাভবান হবেন, অন্যদিকে দেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিবারের নারী প্রধানদের জন্য সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছে। কৃষকের পাশাপাশি মা-বোনদের জীবনমান উন্নয়নেও সরকার বদ্ধপরিকর।’ বক্তব্যের শেষে তিনি দল-মত নির্বিশেষে দেশ গড়ার ডাক দিয়ে বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ। করব কাজ, গড়ব দেশ। আমাদের লক্ষ্য মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে এই নীতিতেই আমরা পথ চলছি। জনগণের সমর্থন থাকলে আমরা একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সক্ষম হব।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন-উর রশিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভী।
কৃষক কার্ড বিতরণ উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন। পরে শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে যান এবং সেখানে কৃষি মেলার উদ্বোধন করেন।